মুক্তদেশ ডেস্ক: ভারতের দিল্লির একটি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) ক্লিনিকে চিকিৎসকদের গাফিলতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, এক নারীর গর্ভে অন্য দম্পতির ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। যমজ সন্তানের জন্মের পর ডিএনএ পরীক্ষায় ওই দম্পতি জানতে পারেন, জন্ম নেওয়া শিশু দুটির সঙ্গে তাঁদের কারও জৈবিক সম্পর্ক নেই।
ঘটনাটি সামনে আসার পর দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত পুলিশকে মামলা গ্রহণ করে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী দম্পতি রাহুল রাঠোর ও মিনু রাঠোর হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা। সন্তান নেওয়ার উদ্দেশ্যে গত বছর তাঁরা আইভিএফ চিকিৎসার আশ্রয় নেন। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লির দ্বারকার একটি হাসপাতাল থেকে তাঁদের দিল্লির গ্রেটার কৈলাস এলাকার একটি বন্ধ্যত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে ডা. শিবানী সাচদেবের তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা শুরু হয়।
দম্পতির দাবি, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁদের জানান, রাহুলের শুক্রাণু ও মিনুর ডিম্বাণু ব্যবহার করেই ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হবে। পরে ২০২৫ সালের ১৪ মে মিনু রাঠোরের জরায়ুতে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনি যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
তবে সন্তানদের চেহারা ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাঁদের সঙ্গে মিল না থাকায় দম্পতির সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাঁরা ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, শিশু দুটির ডিএনএর সঙ্গে রাহুল বা মিনু—কোনো পক্ষেরই মিল নেই। এতে তাঁদের দাবি, তাঁদের অজান্তে অন্য কোনো দম্পতির ভ্রূণ মিনুর গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় দম্পতির জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত গভীর মানসিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিনু রাঠোর বলেন, “আমি যেমন আমার নিজের সন্তানের জন্য খুঁজছি, তেমনি যে মায়ের সন্তান এখন আমার কাছে আছে, সেই মা-ও নিশ্চয়ই তাঁর সন্তানের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন।”
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি শিশুদের স্তন্যপান করাতে পারছেন না। তবে মানবিক কারণে তাঁরা শিশুদের অবহেলা করছেন না। মিনুর ভাষায়, “যদিও এই যমজ কন্যাসন্তান আমাদের নিজের নয়, তবু আমরা তাদের যত্ন করে বড় করছি।”
দম্পতির আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেছেন, এটি গুরুতর চিকিৎসা অপরাধ এবং পরিকল্পিত জালিয়াতির অংশ হতে পারে। তিনি আইভিএফ রেকর্ড, ভ্রূণসংক্রান্ত নথি, ল্যাবের তথ্য, ইলেকট্রনিক ডেটা এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোনো প্রমাণ নষ্ট করা না যায়।
রাহুল রাঠোর ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করে বলেন, হাসপাতালের সব নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য দ্রুত জব্দ করা প্রয়োজন।
মিনু আরও দাবি করেছেন, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক দম্পতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যারা একই ধরনের সমস্যার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার হস্তক্ষেপও চেয়েছেন।
আইভিএফ ও ভ্রূণ প্রতিস্থাপন কী?
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ হলো সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের জন্য ব্যবহৃত একটি আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি। এ প্রক্রিয়ায় ল্যাবরেটরিতে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শুক্রাণু মিলিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই ভ্রূণ স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
আইভিএফ চিকিৎসায় প্রতিটি দম্পতির ডিম্বাণু, শুক্রাণু ও ভ্রূণ আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুলও বড় ধরনের মানবিক ও চিকিৎসাগত বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
