দিনাজপুর: ফুলবাড়ীতে দুই হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। শিশুটির দুই হাতে ৭টি করে ১৪টি এবং দুই পায়ে ৭টি করে ১৪টি আঙুল রয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফুলবাড়ী সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির জন্ম হয়। উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের আরিফ ও লিজা দম্পতির ঘরে শিশুটির জন্ম হয়।
আসাদুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘রোববার দুপুরে আমার স্ত্রী অসুস্থ হলে তাকে পৌরশহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন বিকেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম দেন। নবজাতকটি আমাদের প্রথম সন্তান।’
তিনি বলেন, ‘জন্মের পর দেখি তার প্রতিটি হাত-পায়ে সাতটি করে আঙুল রয়েছে। প্রতিটি আঙুলে নখও হয়েছে। তবে জন্মের দুই দিন পর বাম হাতের একটি আঙুল ঝরে পড়েছে। এছাড়াও শিশুটির ঠোঁটও কাটা রয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। ভ্যান চালিয়ে সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোর পর মেয়ের চিকিৎসা করা আমার সামর্থ্যের বাইরে। মেয়েকে সুস্থ করতে চিকিৎসা করাতে চাই, কিন্তু সামর্থ্য নেই। তবুও সামর্থ্য অনুযায়ী শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
সরকার ১৪শ মানুষের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: জামায়াত আমির
শিশুটির দাদা মো. আমজাদ হোসেন ও দাদি মোছা. আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, আর্থিক সংকটের কারণে যেন শিশুটির চিকিৎসা থেমে না যায়। জন্মের পর তার হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুল দেখে তারা প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন। তবে তাদের এলাকায় আগে কখনো এ ধরনের শিশুর জন্ম হয়নি। এজন্য শিশুটিকে নিয়ে এলাকাবাসীর বেশ কৌতূহল রয়েছে।
লিজা আক্তারের অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক মো. এ এন নূরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘শিশুটির হাত ও পায়ের অতিরিক্ত নখে আপাতত তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে মুখের ওপরের তালুর যে অংশে ত্রুটি রয়েছে, সেটি চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এসকে সাদেক আলী বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অতিরিক্ত আঙুল থাকা অবস্থাকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। এটি কোনো সমস্যা নয়, জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য। যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শিশুটির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।’
