মুক্তদেশ ডেস্ক: আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। তবে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দ্বীপটির নিরাপত্তায় নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। চুক্তিটি একদিকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল রাখার কথা বলা হচ্ছে। ফলে এটি শুধু একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নয়; বরং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ঠিক কতটা বাড়বে এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে, তা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
চুক্তিতে কী কী থাকছে?
১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা দেন। একই দিন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার জানায়, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিটি স্বাক্ষর করার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ সমঝোতা ঘোষণা হলেও আনুষ্ঠানিক আইনি কার্যকারিতা পেতে এখনো কয়েকটি ধাপ বাকি।
গ্রিনল্যান্ডে বাড়বে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
প্রস্তাবিত চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের সুযোগ। নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেসব সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রবেশাধিকার
সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো স্থাপনের সুযোগ
আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার
দ্বীপটির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত ভূমিকা
ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের উপযুক্ত এলাকায় বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হবে। তবে নতুন ঘাঁটি কোথায় তৈরি হবে, কতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে এবং সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে কত অর্থ ব্যয় হবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়া ও চীনের সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর পরিকল্পনা
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর প্রভাব সীমিত করাও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় নন-ন্যাটো দেশগুলোর গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোকে সেখানে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা থেকে বিরত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শুধু সামরিক কার্যক্রম নয়, কিছু কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগের ওপরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে। বিশেষ কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। এর অর্থ হলো, গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কৌশলগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়তে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা
চুক্তির আরেকটি বড় দিক হলো গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের স্থায়ী সক্ষমতা থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সামরিক উপস্থিতি বা আধিপত্য ঠেকানোও এর লক্ষ্য। তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং চুক্তির আইনি ভাষা সবসময় একই অর্থ বহন করে না। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশিত না হওয়ায় ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ বলতে ঠিক কী ধরনের আইনি ক্ষমতা বোঝানো হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সার্বভৌমত্ব থাকবে ডেনমার্কের হাতে
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান সমঝোতার একটি বড় পার্থক্য হলো- এই চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা নেই। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, চুক্তিটি দ্বীপটির নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছেই থাকবে। তবে নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও চুক্তি বহাল থাকতে পারে
প্রস্তাবিত চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলেও এর কিছু নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান কার্যকর রাখার ব্যবস্থা থাকতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার, সামরিক ঘাঁটি এবং আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার দীর্ঘমেয়াদি করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলেও এসব অধিকার বহাল রাখার ব্যবস্থা চুক্তিতে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে স্বাধীনতার প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ২০০৯ সালের সেল্ফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্টে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হলেও বৈদেশিক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির দায়িত্ব এখনো ডেনমার্কের হাতে। তবে স্বাধীনতার পর চুক্তির কোন কোন ধারা কীভাবে কার্যকর থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।
১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের নতুন সমঝোতাটি শূন্য থেকে তৈরি হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে ১৯৫১ সালের গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি। ওই বছরের ২৭ এপ্রিল কোপেনহেগেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা নিয়ে চুক্তি করে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে এতে পরিবর্তন আনা হয়। ২০০৪ সালের আইগালিকু চুক্তিও এই কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি মূলত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি ও পরবর্তী সংশোধনীগুলোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সমঝোতা সেই বিদ্যমান কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পিটুফিক স্পেস বেস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি হলো পিটুফিক স্পেস বেস। এটি আগে থুলে এয়ার বেস নামে পরিচিত ছিল। আর্কটিক অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষার জন্য এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। নতুন চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিধি বাড়তে পারে। এতে বিদ্যমান ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামোর গুরুত্বও আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন গ্রিনল্যান্ড এত গুরুত্বপূর্ণ?
গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে আছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে নতুন সমুদ্রপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। ফলে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা একই সঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডের আয়তন বিশাল হলেও জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির হিসাবে সেখানে জনসংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ৭৪০ জন। দ্বীপটির নিজস্ব নির্বাচিত সংসদ ও সরকার রয়েছে এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা স্বায়ত্তশাসিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বৈদেশিক নীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব এখনো ডেনমার্কের হাতে।
চুক্তি নিয়ে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি
সমঝোতার ঘোষণা এলেও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি পাঠ এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। যেমন-
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ঘাঁটি কোথায় তৈরি হবে
ঘাঁটির সংখ্যা ও মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিমাণ কত হবে
সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় কে বহন করবে
গ্রিনল্যান্ডের প্রশাসনের অনুমোদনের ক্ষমতা কতটা থাকবে
মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ওপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু থাকবে
কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের পরিধি কতটা হবে
গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হলে চুক্তির বিধানগুলো কীভাবে কার্যকর থাকবে
এই বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতা গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রবেশাধিকার ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং কিছু কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ডেনমার্কের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সহযোগিতার সুবিধার সঙ্গে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নয়। বরং ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও নিরাপত্তা ভূমিকা সম্প্রসারণের একটি কাঠামো। তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর, সংসদীয় অনুমোদন এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা বাস্তবে কতটা বাড়ছে এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণের পরিধি কতটুকু থাকছে।
