মুক্তদেশ ডেস্ক: আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা এখন পৃথিবীর তুলনায় চাঁদের আরও কাছে পৌঁছে গেছেন বলে জানিয়েছে নাসা। চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রার তৃতীয় দিনেই চার সদস্যের দলটি এই অবস্থানে পৌঁছে যায়।
একজন নভোচারী বলেন, “আমরা এখন ডকিং হ্যাচ দিয়ে চাঁদ দেখতে পাচ্ছি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ দৃশ্য।”
বুধবার উৎক্ষেপণের পর থেকে ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রায় ১,৫২,০০০ মাইল (২,৪৫,০০০ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করেছে। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষের চাঁদ অভিযানের এটি প্রথম মিশন।
নাসা শুক্রবার প্রথমবারের মতো মহাকাশযান থেকে পাঠানো ছবি প্রকাশ করে। একটি ছবিতে পৃথিবীর বাঁকানো অংশ দেখা যায়, আরেকটিতে পুরো পৃথিবী—সাদা মেঘে ঢাকা নীল গ্রহ। এমনকি সবুজ অরোরার ঝলকও ধরা পড়েছে।
তবে মহাকাশের সৌন্দর্যের মাঝেও সমস্যার শেষ নেই। ওরিয়ন মহাকাশযানের টয়লেট আবারও বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে আপাতত নভোচারীদের বিকল্প হিসেবে বিশেষ প্রস্রাব সংগ্রহের ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
নাসার প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, বরফ জমে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রস্রাব নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে মহাকাশযানটিকে সূর্যের দিকে ঘোরানো হয়েছে, যাতে তাপ পেয়ে বরফ গলে যায়।
এদিকে নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ জানান, টয়লেট থেকে “জ্বলা গন্ধ” আসছিল, যা কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করে।
মিশনে থাকা নভোচারীদের খাবারের তালিকায় রয়েছে টর্টিলা, সবজি কিশ, আমের সালাদ এবং বারবিকিউ গরুর মাংস। যেহেতু মহাকাশযানে ফ্রিজ নেই, তাই সব খাবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা সোমবার চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছাবেন। এরপর চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবেন।
এই মিশনে তিনজন আমেরিকান ও একজন কানাডীয় নভোচারী রয়েছেন। তারা ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের কাছাকাছি যাচ্ছেন।
ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের পেছনের অংশ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ মাইল (৬,৪০০ কিমি) এগিয়ে গিয়ে ফিরে আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে তারা পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরের যাত্রার রেকর্ড গড়বেন—যা ২,৫০,০০০ মাইলেরও বেশি।
এই মিশনের লক্ষ্য ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং আরও দূর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা।
মহাকাশযাত্রার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নভোচারীদের বিশেষ পোশাক তাদের ছয় দিন পর্যন্ত অক্সিজেন, তাপমাত্রা ও চাপ বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
তারা প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট ব্যায়ামও করছেন, যাতে মহাকাশে ওজনহীনতার কারণে শরীরের ক্ষতি কম হয়।
এই মিশনে প্রথমবারের মতো কোনো নারী, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি এবং কোনো অ-আমেরিকান নভোচারী চাঁদের মিশনে অংশ নিচ্ছেন—যা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সবশেষে, পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার বলেন,
“তোমরা খুব সুন্দর দেখাচ্ছো। এখান থেকে তোমাদের একটাই মনে হয়—আমরা সবাই একই মানুষ।”
