মুক্তদেশ ডেস্ক: স্বাধীনতার সময় বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ছিল বতসোয়ানা। কিন্তু হীরার আয় কাজে লাগিয়ে দেশটি সরকারি সেবা, অবকাঠামো ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
এই সপ্তাহে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বতসোয়ানাজুড়ে ‘ডায়মন্ড জুবিলি’ বা হীরকজয়ন্তী উদ্যাপন হচ্ছে। এই বার্ষিকী দেশটির রূপান্তরের ব্যাপকতা তুলে ধরছে। ১৯৬৬ সালে সাবেক বেচুয়ানাল্যান্ড প্রোটেক্টরেট ছিল বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। তখন দেশটিতে পাকা সড়ক ছিল মাত্র ১২ কিলোমিটারের মতো, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২ জন এবং মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উত্তীর্ণ হয়েছিল প্রায় ১০০ জন।
ছয় দশক পর বতসোয়ানা এখন উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং উত্তর-ঔপনিবেশিক আফ্রিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন-সাফল্যের উদাহরণগুলোর একটি। ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বছরে গড়ে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার ৮০০ ডলার। দক্ষিণ আফ্রিকার মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ৬ হাজার ৬০০ ডলার। আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ ও বহুমুখী অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় বতসোয়ানার এই অবস্থান একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। তবে বতসোয়ানার প্রবৃদ্ধির গুরুত্ব শুধু এর আকারে নয়, এই প্রবৃদ্ধির সুফল দেশটি কীভাবে কাজে লাগিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণকারী প্রথম দেশ হয় বতসোয়ানা। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক দেশটিকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। দেশজুড়ে এর পরিবর্তনের চিত্রও স্পষ্ট। ২০২৪ সালের মধ্যে বতসোয়ানার সড়ক নেটওয়ার্ক প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছেছে। দেশটির ৮০ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। আর ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বতসোয়ানার ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করত। ১৯৭১ সালে এই হার ছিল মাত্র ৯ দশমিক ১ শতাংশ।
সরকারি বিনিয়োগের ফলে শিক্ষার সুযোগও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে বতসোয়ানায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ১৫১। আর ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলেন প্রায় ৬০ হাজার ২৮৭ শিক্ষার্থী। স্বাধীনতার সময় যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২ জন, সেই দেশ এখন উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত করছে।
শুধু শিক্ষাতেই এই অগ্রগতি সীমাবদ্ধ থাকেনি। বতসোয়ানায় জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০০২-০৩ সালে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে আনুমানিক ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবারও ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে বতসোয়ানার ৮৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে। দেশটিতে প্রায় সব শিশুর জন্মই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হচ্ছে।
এইচআইভি মোকাবিলায় বতসোয়ানার সাফল্য আরও উল্লেখযোগ্য। ২০০২ সালে দেশটি আফ্রিকার প্রথম জাতীয় বিনা মূল্যের পূর্ণাঙ্গ এইচআইভি চিকিৎসা কর্মসূচি চালু করে। এর ২৩ বছর পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বতসোয়ানাকে বিশ্বের উচ্চ এইচআইভি-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে মা থেকে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বন্ধের পথে ‘গোল্ড টিয়ার’ মর্যাদা অর্জনকারী প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এইচআইভিতে আক্রান্ত ৯৮ শতাংশ গর্ভবতী নারী চিকিৎসা পান। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশে। দেশটির মানুষের গড় আয়ুও বেড়ে হয়েছে ৬৯ বছর।
গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ২০২৪ সালে বতসোয়ানা ডেমোক্রেটিক পার্টির ৫৮ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই নির্বাচনে ভোটাররা বিরোধী দল আমব্রেলা ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জকে (ইউডিসি) ক্ষমতায় আনে এবং বিদায়ী সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।
রাজনীতি ও অর্থনীতির বাইরেও বতসোয়ানার সাফল্য ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে লেটসিলে তেবোগো দেশটির প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন। এক বছর পর কোলেন কেবিনাতশিপি ৪০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। ২০২৬ সালের মে মাসে বতসোয়ানার রাজধানী গাবোরোনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস রিলে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়—আফ্রিকার মাটিতে এটি ছিল প্রথমবারের আয়োজন। ঘরের মাঠে পুরুষদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতে শিরোপা জিতে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটায় বতসোয়ানা।
বতসোয়ানার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে দেশটির হীরার সম্পদ ব্যবস্থাপনার।
বর্তমানে ডি বিয়ার্সের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হীরা খননকারী প্রতিষ্ঠান ডেবসোয়ানার ৫০ শতাংশ মালিকানা বতসোয়ানার। দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘পুলা ফান্ড’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের সম্পদের একটি অংশ সংরক্ষণ করে এবং খনিজসম্পদ-নির্ভর অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দিতে সহায়তা করে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৭ দশমিক ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমান। এটি আরেকটি আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। হীরা থেকে পাওয়া আয়কে শুধু রপ্তানি আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে সরকার তা সরকারি সেবা, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবহার করে চলেছে।
তবে এত অর্জনের পরও বতসোয়ানা সেই পণ্যের ওপরই ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্ভরশীল, যে পণ্য তার উন্নয়নের বড় অংশের অর্থ জুগিয়েছে। গত এক দশকে দেশটির পণ্য রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে হীরা থেকে। জাতীয় রাজস্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশও আসে এই খাত থেকে।
প্রাকৃতিক হীরার বিলাসপণ্যের বাজারে চাহিদা কমেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে তৈরি হীরার সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। এসব হীরা প্রাকৃতিক হীরার তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হয়। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব বতসোয়ানায় দ্রুতই পড়ে। ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি ২ দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হয়। ২০২৫ সালে আরও ০ দশমিক ৭ শতাংশ সংকোচন ঘটে।
এই অর্থনৈতিক মন্দা দেশটির ইতিমধ্যেই গুরুতর কর্মসংস্থান সংকটকে আরও গভীর করেছে। সর্বশেষ পারিবারিক জরিপ অনুযায়ী, বতসোয়ানায় বেকারত্বের হার ২১ শতাংশ। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
বতসোয়ানা মূলত ‘রিসোর্স কার্স’ বা প্রাকৃতিক সম্পদের অভিশাপ এড়িয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু হীরার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে দেশটি বের হতে পারেনি। ৬০ বছরে এসে বতসোয়ানার সামনে চ্যালেঞ্জ আর হীরাকে কীভাবে উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, তা নয়; বরং হীরা ছাড়া কীভাবে এমন সমৃদ্ধি তৈরি করা যায়, যা টিকে থাকবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এর জন্য হীরার বাইরেও তাকাতে হবে। ২০২৫ সালে ডি বিয়ার্সের সঙ্গে বতসোয়ানার চুক্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওকাভাঙ্গো ডায়মন্ড কোম্পানি ডেবসোয়ানার উৎপাদনের ৩০ শতাংশ পাবে। ২০৩০ সালের পর তা বেড়ে ৪০ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যভাবে ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে। চুক্তিতে গয়না তৈরি, হীরা গ্রেডিং এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। বতসোয়ানার উচিত, তারা যে প্রতিটি হীরা উত্তোলন করে, সেখান থেকে যতটা সম্ভব মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা। তবে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পালিশ ও বিপণন করলেও হীরার ওপর নির্ভরতা শেষ হবে না।
বতসোয়ানার এখন আরও বিস্তৃত ও স্থিতিশীল একটি অর্থনীতি প্রয়োজন। এর কিছু ভিত্তি ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় ছিল। এক দশক আগে এই হার ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ইন্টারনেট সংযোগের এই বিস্তার এখনও উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। ২০২৫ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মোট কর্মসংস্থানের মাত্র ২ শতাংশ ছিল। বতসোয়ানাকে এমন দক্ষতা তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে এই প্রযুক্তিগত সংযোগ সফটওয়্যার, ফিনটেক, ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় রূপ নেয়—যেসব ব্যবসা বতসোয়ানার নাগরিকদের কর্মসংস্থান দেবে এবং দেশের সীমানার বাইরেও সেবা বিক্রি করতে পারবে।
পর্যটনও দেশটির বিদ্যমান শক্তির একটি জায়গা। এই খাতে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা মোট কর্মসংস্থানের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সেবা রপ্তানির ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে পর্যটন থেকে। দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ ভূমি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে সুরক্ষিত রাখার সংরক্ষণভিত্তিক মডেলও পর্যটন বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন। মাউনে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে থাকবে ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা। সস্তা ও নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নয়, উৎপাদনশিল্প, ডেটা সেন্টার ও নতুন শিল্প গড়ে তুলতেও সহায়তা করতে পারে।
বতসোয়ানাকে আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দিতে হবে। বেসরকারি খাতের ৯৫ শতাংশেরও বেশি বিক্রি এখনও দেশের অভ্যন্তরেই হয়। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৯ শতাংশ কোনো পণ্য বা সেবা রপ্তানি করে। নতুন অর্থনীতির সুফল পেতে আরও বেশি বতসোয়ানাবাসীর অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রয়োজন, যাতে তারা ব্যবসা শুরু করতে, মালিক হতে এবং তা সম্প্রসারণ করতে পারেন।
যেসব প্রতিষ্ঠান হীরার আয়কে সড়ক, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করেছে, এখন তাদের ছয় দশকে সঞ্চিত দক্ষতা, অবকাঠামো ও মূলধন কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি, জ্বালানি, উৎপাদনশিল্প ও রপ্তানিনির্ভর নতুন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।
বতসোয়ানার অভিজ্ঞতা দেশটির সীমানার বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ আফ্রিকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে এর রেকর্ডের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার রপ্তানিতে তামা প্রধান পণ্য। দেশটির ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় নিয়ে জীবনযাপন করে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তামা ও কোবাল্টে সমৃদ্ধ হলেও দেশটির ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ একই আয়সীমার নিচে বসবাস করে। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ নাইজেরিয়ায় ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় করে।
বতসোয়ানা দেখিয়েছে, কোনো দেশের খনিজসম্পদ থাকা বা না থাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সম্পদটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, এর আয় কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে এবং রাষ্ট্র সেই আয়কে উন্নত আবাসন, শক্তিশালী অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য সরকারি সেবা ও মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে পারছে কি না।
আফ্রিকার দেশগুলো যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন এই শিক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য অনিবার্যভাবে দুর্নীতি, সংঘাত বা দারিদ্র্য ডেকে আনে না। শেষ পর্যন্ত সাফল্য মাপতে হবে এই প্রশ্নে—সম্পদগুলো কি আরও উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে, মানুষের সুযোগ বাড়াচ্ছে এবং তাদের জীবনযাত্রায় বাস্তব উন্নতি ঘটাচ্ছে?
৬০ বছর বয়সী বতসোয়ানার বৃহত্তর তাৎপর্য এখানেই: সঠিক হাতে থাকলে উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রক্ষমতা কেবল অল্প কয়েকজনের স্বার্থে নয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজে লাগতে পারে।
সেতসোয়ানা ভাষার একটি পুরোনো প্রবাদ আছে: “Moenyane o pele lebone la waabo”—যে সামনে এগিয়ে যায়, সে-ই পরবর্তীদের পথ দেখানোর আলো হয়ে ওঠে।
