মুক্তদেশ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার বন্দরনগরী ওনসান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে অন্তত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (JCS) শনিবার সকালে জানায়, কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের বন্দরনগরী ওনসান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারের (৪৩৫ মাইল) বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর পরিস্থিতি মূল্যায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি বৈঠক করেছে। এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কথা জানিয়েছে তারা।
শনিবার জাপানও জরুরি সতর্কতা জারি করে বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়া একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা করছে।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তারা বলেছে, ‘বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্য বা ভূখণ্ড কিংবা আমাদের মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি হয়নি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়াকে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানোর এক দিন পর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড বলেছে, সামরিক সীমারেখার দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইনের কারণেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে।
কোরীয় উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত ৪ কিলোমিটার (২.৫ মাইল) প্রশস্ত সীমান্ত এলাকার ভেতরে একটি নজরদারি অভিযানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা ওই বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এসব উদ্যোগের মধ্যে স্থলমাইন পোঁতা এবং ট্যাংকবিধ্বংসী প্রতিবন্ধক স্থাপনও রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং ‘সম্পূর্ণ করুণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়।
শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক সামরিক প্রদর্শনের সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে দেশটি কথিত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরীক্ষা, সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া এবং একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিংসহ বিভিন্ন সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
