মুক্তদেশ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলায় হত্যা করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, খামেনি এবং অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তারা ইউএস গোয়েন্দাদল ও উন্নত ত্র্যাকিং ব্যবস্থার হাত থেকে পালাতে পারেনি।খামেনি ১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা হন, আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর — যিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। খোমেইনি যখন পার্লাভি রাজতন্ত্রের পতনের দর্শনীয় শক্তি ছিলেন, তখন খামেনিেই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইরানের সামরিক ও আধা-সামরিক শক্তি গড়ে তুলেছিলেন—যা দেশের敵দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ও ইরানের প্রভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে বিস্তৃত হয়েছিল।
ইরানীয় প্রেসিডেন্ট থেকে সর্বোচ্চ নেতা হওয়া
খামেনি ১৯৮০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেন যখন ইরান–ইরাক যুদ্ধ ভয়াবহ আকারে চলছিল। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং তখনকার পশ্চিমা দেশের সমর্থনের অভাবে ইরানিদের মধ্যে সাধারণভাবে পশ্চিমা বিশ্ব ও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভয় ও অনাস্থা তৈরি হয়, যা পরে তার দীর্ঘ শাসনের মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই যুদ্ধেই তার রাজনৈতিক ও বিদেশ নীতির ভিত্তি তৈরি হয়—যেখানে তিনি ভাবতেন ইরানকে সবসময়ই “বাইরের ও ভিতরের বিপদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে” থাকতে হবে।
ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্ব
খামেনি ভাষণশৈলীতে ছিলেন খুবই তীব্র এবং কারিশমাটিক; তিনি ইসলামী বিপ্লবের নতুন ইরান গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বাস্তবে, তিনি কেবল ধর্মীয় পোশাক পরিধান করতেন বলেই ইরানকে “ধর্মীয় রাষ্ট্র” মনে হত—কিন্তু বাস্তবে তিনি যুদ্ধ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন নেতা ছিলেন, যিনি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোকে সবসময়ই শক্তিশালী করতে চাইতেন।
ক্ষমতায় ওঠা ও নীতি পরিবর্তন
১৯৮১ সালে খামেনি একটি হত্যাচেষ্টায় তার ডান হাতের অনেকটা শক্তি হারিয়ে ফেলেন, তবে পরের বছরই তিনি ইরানের প্রথম ধর্মগুরু প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৮৯ সালে খোমেইনির মৃত্যুর পর ইরানের সাংবিধানিক কাঠামো বদলে খামেনির যোগ্যতা বাড়িয়ে তাকে সর্বোচ্চ নেতার পদে আরোহণ করানো হয় — যদিও তার শিক্ষাগত উপাধি তখন সর্বোচ্চ ধর্মীয় উপাধি ছিল না।
কিন্তু সেই নেতৃত্ব ছিল কোনো সাধারণ শাসনই নয়।
একরিক দীর্ঘশাসন ও বিরোধ
খামেনির শাসনকালে ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে, এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও বিরোধী মনোভাবও বাড়তে থাকে।
বিশেষ করে ২০০৯ সালে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিক্ষোভ—যা সরকারের কড়া দমন-পীড়নে পরিণত হয়—এছাড়া ২০২২ সালে মহসা আমিনি’র মৃত্যুর পর বিক্ষোভ ইরানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
এই আন্দোলনের ফলে অনেকেই মনে করতে শুরু করেন খামেনির নীতিমালা আজকের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মিলছে না, যারা অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমাজিক পরিবর্তন চাইছে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও সংঘাত
খামেনি শুধু দেশের অভ্যন্তরেই প্রভাবশালী ছিলেন না — তিনি ইরানের বাহিরেও প্রতিরোধের নীতি ছড়িয়ে দেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবশালী মিলিশিয়া ও সংগঠনের মাধ্যমে।
এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তার দীর্ঘ স্থায়ী উত্তেজনার একটি বড় অংশ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই যৌথ বিমান হামলায় তার হত্যার দিকে নিয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য: পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে — কিছুতে প্রথমে তার বেঁচে থাকার দাবি করা হলেও পরে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
