মুক্তদেশ ডেস্ক:জেফরি এপস্টেইন এর মালিকানার ক্যারিবিয়ান দ্বীপ ‘সেইন্ট জেমস’ এর ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে পশ্চিমা বিশ্বের আসল চেহারা।
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ করেছে পাশ্চাত্যের আলোকিত বর্বরদের ভয়ানক, লোমহর্ষক, শ্বাসরুদ্ধকর অন্ধকার গোপন কুঠুরির পরিচয়। ২০২৬ সালের শুরুতে আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস প্রায় ৩০ – ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা ডকুমেন্ট, প্রায় ১.৮ লাখ ছবি আর হাজার হাজার ভিডিও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে; আরও কয়েক মিলিয়ন ডকুমেন্ট গোপন আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিকটিমের নিরাপত্তা আর চলমান তদন্তের অজুহাতে।
১। বিভিন্ন দেশের স্কুল, স্টেশন, এয়ারপোর্ট থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশুদের অপহরণ
২। সেইন্ট জেমস দ্বীপে বন্দি করে রাখা
৩। অবাধে ধর্ষণ, শিশুদের আর্তনাদে উল্লাস বোধ করা
৪। বিশ্বের সেলিব্রিটি পুরুষদের সেখানে দাওয়াত দিয়ে সেই কন্যাশিশুদের ধর্ষণ করার সুযোগ করে দেওয়া
৫। ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল করে অর্থ আদায়, অস্ত্রক্রয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ইত্যাদিতে বাধ্য করা
৬। নিষ্পাপ শিশুরা প্রেগনেন্ট হয়ে গেলে কয়েক মাস পরে গর্ভের সন্তানদের বের করে ফ্রাই করে খাওয়া
৭। ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, ইলন মাস্ক, প্রিন্স এন্ড্রু, বিল গেটস, নরেন্দ্র মোদি, বেনজামিন নেতানিয়াহু, স্টিফেন হকিং সহ সমকালীন বিশ্বের প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের অনেক কুতুবই সেই সেইন্ট জেমস দ্বীপে গিয়েছেন, শিশুধর্ষণ, শিশুহত্যা, নরমাংস ভক্ষণসহ মানবতাবিরোধী ঐসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
৮। ঐ দ্বীপের নাম হয়েছে এখন ‘পেডোফিলিয়া আইল্যান্ড’, সেখানকার তথ্য ফাঁস করার কারণেও অনেক নারী গুম হয়েছেন
৯। প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐ দ্বীপের অপরাধের সাথে জড়িত (ভিডিও বা ডকুমেন্টে তাঁর তরুণ এবং মধ্যবয়সের অনেক ছবি দেখা যায়) ফ্লোরিডার মিয়ামির বিচে এবং অন্য সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে তিনি কন্যাশিশুদের নিলামে তুলে বিক্রি করতেন
১০। এতবড় অপরাধগুলো কি এক দিনে হয়েছে? ট্রাম্পের এইসব কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে তাঁর কন্যা ইভাঙ্কা এবং দুই পুত্র, ভাবা যায়?
১১। পৃথিবী চালাচ্ছে এসব নরমাংসভোজী বর্বরেরা, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য সব এদের হাতে
১২। আমরা পাশ্চাত্য-পূজারীরা খুব শিঘ্রই এইসব ফাইলের কথা ভুলে যাব, যেভাবে ভুলে গেছি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, এডওয়ার্ড স্নোডেন, পানামা ফাইলস ইত্যাদি, ওদের রাজনৈতিক এবং দুর্নীতির মতো সব অপরাধের নথিগুলোর কথা
১৩। তবে পাশ্চাত্যের দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানীরা কিন্তু নিজেদের আলোকিত পাপীদের নিয়ে গবেষণা করবেন না, শুধু প্রাচ্যের কোন জাতি অতীতে কী করত, সেসব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রাচ্যকে, এশিয়া-আফ্রিকা- দক্ষিণ আমেরিকাকে ‘অন্ধকার’ বলে অভিহিত করেই যাবেন
১৪। আর আমরা সাম্রাজ্যবাদের দালালরা, পুঁজিবাদের এজেন্টরা বর্বরদের সম্মানে সব অপরাধ দ্রুত ঢেকে ফেলার প্রয়াসে জড়িত হব, নানাভাবে মিনিমাইজ করে দেখা এবং দেখানোর চেষ্টা করব
১৫। অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘ফ্রাইডে আইল্যান্ড অথবা নরমাংস ভক্ষণ এবং তাহার পর’ উপন্যাসের কথা মনে হলে এখন বুঝব সেই দ্বীপের বর্তমান নাম ‘সেইন্ট জেমস আইল্যান্ড,’ যেখানে আধুনিক যুগের ‘উন্নত’ বিশ্বের সেলিব্রিটিরা নরমাংস ভক্ষণ করতেন
১৬। কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘পঞ্চ রোমাঞ্চ’, ‘ছয় রোমাঞ্চ’ ইত্যাদি গল্পগ্রন্থ পড়ে, কোনো কোনো গল্পে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্যারিবিয়ান দ্বীপের মধ্যেকার সভ্যতাবিরোধী অপরাধের কথা জানতাম, কিন্তু কাল্পনিক ফিকশন বলেই বিশ্বাস করতাম, অথবা গোপন স্ম্যাগলার বা দক্ষিণ আমেরিকার জেলপালানো দাগি আসামীদের গল্প বলেই মনে করতাম,
১৭। এখন দেখি সুপার সেলিব্রিটিরাই আসল ক্রিমিনাল
এতবড় জঘন্য অপরাধের জন্য সম্ভবত ট্রাম্প কিংবা কাউকেই ক্ষমতা হারাতে হবে না, কারাগারে যাওয়া তো দূরের কথা
১৮। নরহত্যার অস্ত্রধারী পাশ্চাত্য সভ্যতার কবি, সাহিত্যিক, লেখক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক, গবেষক, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক সবাই চোরের মায়ের বড় গলায় কথা বলেই যাবেন
১৯। কাজী আনোয়ার হোসেন বেঁচে থাকলে আজ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, এত আগে তিনি ঐসব দ্বীপের অপরাধের কথা জানলেন কেমন করে?
২০। মিডিয়ার লাইনে চাকরি করার সময় আন্তার্জাতিক ডেস্কে ছিলাম, পশ্চিমের অনেক দেশে নবজাত শিশুর নরম মাংস ব্লেন্ডারে সুপ বানিয়ে খাওয়া, শিশুদের মল দিয়ে বানানো রেসিপি (ছবিও দেখেছিলাম), শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দিয়ে বানানো রেসিপির কথা বিভিন্ন সময় অনলাইন নিউজে দেখতাম, এখন দেখি সব সত্য
২১। এসব ঘটনা কি শুধু ঐ একটি দ্বীপেই ঘটেছে? নাকি এমন আয়নাঘর পাশ্চাত্যের অনেক সমুদ্র-দ্বীপে, মরুদ্বীপে, গভীর অরণ্যে, আন্ডারগ্রাউন্ড হোটেলে, বিলাসবহুল রিসোর্টে আরো আছে, যা আগামী দিনের তদন্তকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে?
২২। এই এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে বেশি কচলা-কচলি হলে পশ্চিমারা হয়ত এশিয়া-আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ লাগাবে, বিশ্ববাসীর চোখ অন্যদিকে সরিয়ে দেবে, ডেনমার্ক-আমেরিকার দ্বন্দ্ব মিটে যাবে হয়ত, মিলেমিশে এক হয়ে যেতে পারে আবার ইউরোপ আর আমেরিকা, সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমরা তো আছিই ।এসব ঘটনা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলে কত অজানা দিক উন্মোচিত হবে, ওদের হিংস্রতা, ওদের সামাজিক-মানসিক রুচিবিকৃতি যতই উঠে আসুক, আমরা যেন তা তাঁদের কাছে কুজো হয়েই থাকব!? (সংগৃহীত)
Previous Articleনির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন
Related Posts
Add A Comment
