মুক্তদেশ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার পর দুই দফায় এ ভূমিকম্প হয়। দুটি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের অনেক এলাকায় এ কম্পন অনুভূত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম ভূমিকম্পটি বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১ সেকেন্ডে আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এরপর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।
প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মিংডু এলাকায়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫২১ কিলোমিটার। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করছে আবহাওয়া অফিস।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, মিয়ানমারের যে অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এটি একটি সাবডাকশন জোনের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ধরনের ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে সাধারণত তুলনামূলক কম পড়ে।
গবেষকদের ভাষায়, দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলকে সাবডাকশন জোন বলা হয়। এখানে একটি প্লেট আরেকটি প্লেটের নিচে সরে যায়। বাংলাদেশে এই সাবডাকশন জোন সিলেট থেকে কক্সবাজারের পার্বত্য অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এই সাবডাকশন জোনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার।
এর আগে একই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে সাতক্ষীরা জেলায় কম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
