মুক্তদেশ ডেস্ক: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের সময় এসেছে। তিনি বলেন, এই সরকার কোন পদ্ধতিতে ক্ষমতা ছাড়বে, সেটা এখনই স্পষ্ট করা জরুরি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে, সংকট ততই গভীর হবে।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশের এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রশ্ন
দেবপ্রিয় বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ পরবর্তী সরকার কতটা বৈধতা দেবে, তাও চিন্তা করতে হবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া-যতটুকু না করলেই নয় ততোটুক সংস্কার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। নির্বাচন অক্টোবরে হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বলেন, পিআর পদ্ধতি ভালো হলেও এখন তা সময়োপযোগী নয়।
এদিকে সেমিনারে ডেমোক্রেসি ডায়াস বাংলাদেশের সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ২৬টি দেশে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল, সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে করা গবেষণার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টি দেশই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করেছে। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণায় আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আরও বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমও কার্যত সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি (পিআর) কতটা বাস্তবসম্মত। এ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনো এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়। যারা এই পদ্ধতির দাবি তুলছেন, তারা মূলত দলের স্বার্থে কথা বলছেন, দেশের স্বার্থে নয়। অনেকেই মনে করেন, সরকারকে সময় বাড়ানোর সুযোগ দিতেই এই দাবির পেছনে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকায় দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের সমাধান হওয়া উচিত।
