মুক্তদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে প্রতিবেশী দেশটি থেকে পালিয়ে আসার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে তারা শিবিরগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী বসতি গড়ে উঠেছে। সেখানে প্রায় ৩০টি শিবিরে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন। তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের বাড়িতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের নবম বার্ষিকী’ হিসেবে পালন করা দিনটিতে বিক্ষোভকারীরা রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) জানায়, তারা এই সমাবেশের আয়োজন করেছে ‘সংঘটিত নৃশংসতাগুলো স্মরণ করা’ এবং ‘চলমান মানবিক সংকটের’ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সামরিক বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করে। এর পরপরই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
বাংলাদেশ সরকার এর আগে অন্তত দুবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা করেছে। কিন্তু মিয়ানমারে নিরাপত্তার অভাবের কথা উল্লেখ করে কোনো শরণার্থীই ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই উদ্যোগগুলো থেমে যায়। ঢাকা জানিয়েছে, কাউকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না।
চলতি মাসে মিয়ানমারের সামরিক সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসরত ৩ লাখের বেশি মানুষ রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের দেওয়া এই পরিসংখ্যান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করতে মিয়ানমারের অব্যাহত অস্বীকৃতিরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে। বাংলাদেশ মনে করে, এভাবে তাদের পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে এবং রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাওয়ার অধিকার অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
