মুক্তদেশ ডেস্ক: ভারতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিক্স সম্মেলন শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। তাতে যোগ দিতে দিল্লিতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও শনিবার দিল্লি পৌঁছোচ্ছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠীতে যোগ দিতে চেয়ে তিন বছর আগেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। এখনও তাদের আবেদন ঝুলে রয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিদেশ দফতর থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, তারা ব্রিক্সে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। এই গোষ্ঠীকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ বলেও উল্লেখ করেছিল ইসলামাবাদ। বলা হয়েছিল, ব্রিক্সের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এখনও ব্রিক্সে ঢুকতে পারেনি ভারতের এই পড়শি দেশ।
ভারতের সঙ্গে মতপার্থক্য হলে সামাল দেবে চিন! জিনপিং দিল্লি পৌঁছোনোর আগেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলল বেজিং
ব্রাজ়িল, রাশিয়া, ভারত এবং চিনকে নিয়ে ব্রিক্স গড়ে উঠেছিল ২০০৬ সালে। তারাই গোষ্ঠীর ‘মূল সদস্য’। রাশিয়ায় এই গোষ্ঠীর প্রথম সম্মেলন হয় ২০০৯ সালে। এর পর ২০১১ সালে এই গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে ধীরে ধীরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান যোগ দিয়েছে ব্রিক্সে। ২০২৫ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়াও এই গোষ্ঠীর সদস্য। পাকিস্তানের অনুরোধ সত্ত্বেও কেন তাদের এখনও ব্রিক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি? চিনের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিতর্কে বার বার চিনকে পাশে পেয়েছে পাকিস্তান। এমনকি, রাশিয়ার সঙ্গেও তাদের হৃদ্যতা কারও অবিদিত নয়। তার পরেও ব্রিক্সে পাকিস্তানের অনুরোধ গ্রাহ্য হয়নি।
পাকিস্তানকে ব্রিক্সের অন্তর্ভুক্ত না করার নেপথ্যে ভারতের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। কারণ, গোষ্ঠীর ‘মূল সদস্য’ রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক সংঘাতপূর্ণ। ব্রিক্সে প্রবেশের একমাত্র শর্ত হল, সকল ‘মূল সদস্য’ রাষ্ট্রের সর্বসম্মত স্বীকৃতি। এ ক্ষেত্রে চারটির মধ্যে কোনও একটি রাষ্ট্রও যদি না চায়, তবে ব্রিক্সের সদস্যপদ পাওয়া যায় না। ভারতের তরফে পাকিস্তানের ব্রিক্স আবেদন নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে তাদের আবেদনে ভারতের অমত রয়েছে বলেই বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
পাকিস্তানের ব্রিক্সে প্রবেশ করতে চাওয়ার নেপথ্যে অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। ব্রিক্স সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে সম্প্রতি ৫৮ কোটি ডলারের ‘স্টেক’ কিনেছে ইসলামাবাদ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের উপর নির্ভরতা কমাতেই এই পদক্ষেপ। ব্রিক্সের সদস্য হতে পারলে তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। অন্য দিকে, ব্রিক্সের সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে। ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে এই বাণিজ্যে। আনন্দবাজার
