মুক্তদেশ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী দিয়ে না গিয়ে বিকল্প পথে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তা তেল পাইকারি বিক্রেতা ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করছে জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয়।
সম্পদস্বল্প দেশ জাপান দীর্ঘদিন ধরেই অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে বিকল্প পথে তেল আমদানির অতিরিক্ত ব্যয় কোম্পানিগুলো ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিলে জাপানের সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রলের দাম বেড়ে যেতে পারে।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (METI) শুক্রবার তেলজাত পণ্যের সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্সের বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে। তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটির বিস্তারিত পরে আলোচনা করা হবে।
বিকল্প পথে তেল আনতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি
মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল জাপানে পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেলবাহী ট্যাংকারকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ-এর কাছ দিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হলে সময় লাগে প্রায় ৫০ দিন।
ফলে দীর্ঘ যাত্রার কারণে জ্বালানি ও জনবল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে, সেটিই জাপান সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় সরকার-সমর্থিত Japan Organization for Metals and Energy Security (JOGMEC) তেল পাইকারি বিক্রেতা ও ট্রেডিং কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করবে। সেই অর্থ ব্যবহার করা হবে এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দিতে, যারা হরমুজ প্রণালী ব্যবহার না করে বিকল্প পথে তেল আমদানি করবে।
হরমুজ সংকটে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনছে জাপান
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানকে তার জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে হচ্ছে।
এরপর থেকে জাপান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তেল সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়েছে। জাপান সরকার আশা করছে, আগের বছরের তুলনায় চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি ১০ গুণ বেড়ে যাবে।
তবে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর ফলে পরিবহন সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়ছে। সরকার তাই অতিরিক্ত এই ব্যয়ের একটি অংশ কীভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যায়, সে বিষয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এই উদ্যোগ জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
