মু্ক্তদেশ ডেস্ক:বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াইয়ের ঘটনা খুব বেশি নেই। এখন পর্যন্ত এমন নজির দেখা গেছে মাত্র দুইবার। তবে দুইবারই ছিলেন একই জোড়া ভাই—জেরোম বোয়াটেং ও কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং।
২০১০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জার্মানি ১-০ গোলে হারিয়েছিল ঘানাকে। সেই ম্যাচে ছোট ভাই জেরোম খেলেছিলেন জার্মানির হয়ে, আর বড় ভাই কেভিন-প্রিন্স ছিলেন ঘানার জার্সিতে। চার বছর পর ২০১৪ বিশ্বকাপেও একই মঞ্চে মুখোমুখি হন দুই ভাই। সেবার জার্মানি-ঘানা ম্যাচ শেষ হয় ২-২ গোলে ড্রয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও দেখা যেতে পারে এমন বিরল দৃশ্য। এবার আসরে থাকার কথা ছিল আট জোড়া ভাইয়ের। তবে চোটের কারণে একজন ছিটকে যাওয়ায় সেটি নেমে এসেছে ‘সাড়ে সাত জোড়ায়’। অর্থাৎ সাত জোড়া পূর্ণ ভাইয়ের পাশাপাশি একটি জোড়ার একজন খেলোয়াড় নেই। এর মধ্যে চার জোড়া ভাই খেলবেন একই দলের হয়ে, আর চার জোড়া প্রতিনিধিত্ব করবেন ভিন্ন ভিন্ন দেশের।
একই দলের জার্সিতে ভাইয়েরা
ফ্রান্স দলে আছেন থিও হার্নান্দেজ ও লুকাস হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডস দলে ছিলেন জুরিয়েন টিম্বার ও কুইনটেন টিম্বার। তবে চোটের কারণে জুরিয়েন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা কেপ ভার্দে ও কুরাসাও দলেও রয়েছে ভাইয়ের জুটি। কেপ ভার্দের হয়ে খেলবেন লারোস দুয়ার্তে ও দেরয় দুয়ার্তে। আর কুরাসাও দলে আছেন লিয়ান্দ্রো বাকুনা ও জুনিনিও বাকুনা।
ভিন্ন দেশের হয়ে খেলবেন ভাইয়েরা
আইভরি কোস্টের গুয়েলা দুয়ে ও ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে—দুই ভাই খেলবেন দুই দেশের হয়ে। দুজনের জন্ম ফ্রান্সে হলেও গুয়েলা বেছে নিয়েছেন বাবার জন্মভূমি আইভরি কোস্টকে।
উইলিয়ামস ভাইদের গল্পও ভিন্ন। স্পেনের বাস্ক অঞ্চলে জন্ম নেওয়া বড় ভাই ইনাকি উইলিয়ামস খেলছেন ঘানার হয়ে, আর ছোট ভাই নিকো উইলিয়ামস স্পেনের অন্যতম তারকা।
ঘানার ডিফেন্ডার ডেরিক লাকাসেনের ভাই ব্রায়ান ব্রবি খেলবেন নেদারল্যান্ডসের হয়ে। দুই ভাইয়ের মা একই হলেও বাবা আলাদা।
আরেকটি আলোচিত জুটি হ্যারি ও জন সউতার। স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া হ্যারি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলবেন, আর তাঁর বড় ভাই জন প্রতিনিধিত্ব করবেন স্কটল্যান্ডের। তাদের মা অস্ট্রেলিয়ান হওয়ায় হ্যারি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
গ্রুপ পর্বে নেই ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াইয়ের সম্ভাবনা
বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী এবার সরাসরি ভাইয়ে ভাইয়ে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-১ গোলের জয়ে গোল করেন গুয়েলা দুয়ে। গ্যালারিতে বসে ম্যাচটি দেখেন তাঁর ভাই দেজিরে। ম্যাচ শেষে গুয়েলা বলেন, “ম্যাচের আগে আমরা খুনসুটি করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা এক পরিবার এবং একে অপরের জন্য আমরা খুশি।”
অভিবাসন বদলে দিয়েছে ফুটবলের চিত্র
গত কয়েক দশকে ইউরোপে অভিবাসনের কারণে আফ্রিকার অনেক জাতীয় দল নতুন প্রতিভার সন্ধান পেয়েছে। প্রবাসী বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠন করছে তারা।
আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো, মরক্কো, সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার মতো বিশ্বকাপ খেলা কয়েকটি দেশের স্কোয়াডে এখন নিজ দেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়ের চেয়ে ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলারের সংখ্যাই বেশি। আর সেই বৈচিত্র্যই বিশ্বকাপের মঞ্চে তৈরি করছে নতুন নতুন পারিবারিক গল্প।
