মুক্তদেশ ডেস্ক: বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন একটি বার্তা শেয়ার করেছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। বিয়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!’। তাঁর এই পোস্ট ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ও ‘স্ট্রেইট কাট’-এর মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। ঢাকার বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এ আয়োজন। পারিবারিক পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবদম্পতির জন্য শুভকামনা জানান স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
দীপ্তি চৌধুরীর স্বামীর নাম মুশতাক ইবনে আইয়ুব। তিনি পেশায় শিক্ষক ও গবেষক। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন একাডেমিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।
বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করে দীপ্তির পরিবারের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ আক্দ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। সবার কাছে দীপ্তির নতুন জীবনের জন্য দোয়া চাই।”
এরপর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ের আরও কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা তাঁর আবেগঘন বার্তাটি দ্রুতই নেটিজেনদের নজর কাড়ে।
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বয়ে যায়। সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানান। বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপ্তিকে নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, দীপ্তির ব্যবহৃত বাক্যটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপ থেকে অনুপ্রাণিত। মূল সংলাপে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বহুল পরিচিত এই সংলাপকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর পরিবর্তে ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন দীপ্তি।
ফলে বিয়ের ছবির সঙ্গে প্রকাশিত তাঁর সংক্ষিপ্ত বার্তাটি শুধু ভালোবাসার প্রকাশই নয়, বরং হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজগতের প্রতি এক নস্টালজিক শ্রদ্ধা ও স্মরণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
