মুক্তদেশ ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির জন্তর মন্তরে আজ শনিবার এক অভিনব বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল দেশ। মুখে আরশোলার মুখোশ, হাতে প্ল্যাকার্ড এবং কাঁধে জাতীয় পতাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকেরা।
সকাল থেকেই জন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অনেকের মুখে ছিল আরশোলার মুখোশ। ‘ককরোচ’ বা আরশোলাকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার ব্যাখ্যায় সংগঠনটির দাবি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেই এই প্রতীক ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিক্ষোভস্থলে আরশোলা মুখোশ পরা সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। কারও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘ফাঁস না হওয়া সরকারি পরীক্ষার অপেক্ষায়’। আবার আন্দোলনকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া চেয়েছিলাম, লিক ইন ইন্ডিয়া পেলাম’—এমন স্লোগান।
ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস, সিবিএসইর অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, সিইউইটি পরীক্ষার বিভিন্ন সমস্যা এবং নিয়োগ পরীক্ষাগুলোকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।
আমেরিকা সফর শেষে দেশে ফিরে এদিন সরাসরি আন্দোলনে যোগ দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। দিল্লি পুলিশের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি জন্তর মন্তরের উদ্দেশে রওনা হন। আন্দোলনের আগে তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতীয় পতাকা, বই ও ফুল নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এমনকি পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সীমান্ত এলাকা এবং জন্তর মন্তর চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে করা তাঁদের আবেদনে ইতোমধ্যে আট লাখের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন।
