মুক্তদেশ ডেস্ক: বাংলাদেশে খেজুরের বাজার এখন অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। একসময় প্রায় পুরো আমদানিই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।
🌍 মোট কত দেশ থেকে আসে?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ২৩টি দেশ থেকে প্রায় ৯২ হাজার টন খেজুর আমদানি করেছে।
📊 অঞ্চলভিত্তিক চিত্র
মধ্যপ্রাচ্য (৬ দেশ)
ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ৬টি দেশ থেকে এসেছে মোট আমদানির ৮৮.৫৯%।
➡ এখনো বাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর।
আফ্রিকা (৪ দেশ)
তিউনিসিয়া, মিসর, আলজেরিয়াসহ ৪টি দেশ থেকে এসেছে ৯.৫৮%।
অন্যান্য (১৩ দেশ)
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, জাপানসহ ১৩টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ২%।
অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের প্রাধান্য থাকলেও উৎসের বৈচিত্র্য দ্রুত বাড়ছে।
🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র থেকে খেজুর
খেজুর আমদানির তুলনামূলক নতুন উৎসগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র।
- বাংলাদেশে প্রথম মার্কিন খেজুর আসে ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর।
- গত জানুয়ারিতে (রোজার আগে) প্রায় ৪৭ হাজার কেজি খেজুর আমদানি হয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার ‘মেডজুল’ (Medjool) খেজুর আসে।
- গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার কেজি খেজুর আমদানি হয়েছে।
- ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খেজুর রপ্তানির গন্তব্য তালিকায় বাংলাদেশ উঠে এসেছে ১৯তম স্থানে।
যদিও পরিমাণ কম, তবে বড় আকার ও উচ্চমূল্যের কারণে মেডজুলের আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে।
📈 অতীত বনাম বর্তমান
| সময়কাল | আমদানির দেশ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ২০০৫–০৬ | ৫টি দেশ | ২০–২২ হাজার টন |
| বর্তমানে | ২৩টি দেশ | প্রায় ৯২ হাজার টন |
আগে খেজুর মূলত রোজার সময়েই বাজারে দেখা যেত। এখন স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সারা বছর খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় আমদানি প্রায় লাখ টনের কাছাকাছি।
🛒 বাজারে কত ধরনের খেজুর?
বাংলাদেশের বাজারে এখন ১৫ থেকে ২০ জাতের খেজুর পাওয়া যায়।
যেমন:
- মেডজুল
- আজওয়া
- ডেগলেট নূর
- মাযাফাতি
- কিমিয়া
- সাফাভি
ইত্যাদি।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশে বর্তমানে ২৩টি দেশ থেকে খেজুর আমদানি হয়। বাজার এখনো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হলেও আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে। খেজুরের বাজার বছরে প্রায় ১৪ কোটি ডলারের বেশি, এবং এটি প্রায় ১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
