মুক্তদেশ ডেস্ক: রমজান মাসে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রকাশকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর ঘোষণার পর তিন শতাধিক প্রকাশক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়ে সময়সূচি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রোজার মধ্যে মেলা হলে বিক্রি কমে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
চিঠিতে প্রকাশকেরা উল্লেখ করেন, রমজানে মানুষের সময় ও ব্যয়—দুটিই সীমিত থাকে। ঈদকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার চাপ বাড়ে, ফলে বই কেনার আগ্রহ কমে যেতে পারে। যদিও সরকার স্টলভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে, তবু সাজসজ্জা, কর্মচারী, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বহন করা কঠিন হবে বলে তাঁদের দাবি। একবার বিনিয়োগ ডুবে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয় বলেও জানান তাঁরা। প্রকাশকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বই পড়ার অভ্যাস তুলনামূলকভাবে কম। অধিকাংশ বইয়ের প্রথম মুদ্রণ ৩০০ কপির কম এবং তারও বড় অংশ বিক্রি হয় না। গত দেড় বছরে বই বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে বলে তাঁদের দাবি। বাংলা একাডেমির হিসাবে, গত বছর বইমেলায় ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের ৫২ কোটির তুলনায় কম।
এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মেলার মূল ক্রেতাশ্রেণিকে প্রভাবিত করতে পারে। নির্বাচনের পর নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রুত স্টল প্রস্তুতের চাপও খরচ বাড়িয়েছে। অনেক স্টলকর্মী শিক্ষার্থী হওয়ায় ঈদের আগে তাঁদের বাড়ি ফেরার প্রবণতা এবং রোজা রেখে দীর্ঘ সময় কাজের বিষয়টিও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকাশকদের মতে, একটি বই প্রকাশে সম্পাদনা, প্রুফ, প্রচ্ছদ, ছাপা, বাঁধাই ও বিপণনসহ প্রতিটি ধাপে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। বইমেলাকে কেন্দ্র করে শতকোটি টাকার বই ছাপা হলেও বিক্রি সেই তুলনায় কম। ফলে আর্থিক ঝুঁকি পুরোপুরি প্রকাশকদের ওপরই পড়ে। তাঁরা সরকারি বই ক্রয়ের নীতিতে পরিবর্তন এনে মানসম্মত বই রাষ্ট্রীয়ভাবে কেনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকাশনা খাতের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের বই কেনায় উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে।অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন ফেব্রুয়ারির সময়সূচি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, তাই তা পরিবর্তন করা উচিত নয়। তবে প্রকাশকদের মতে, ঐতিহ্য রক্ষা জরুরি হলেও আর্থিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে প্রতীকী আয়োজন রেখে পরে পূর্ণাঙ্গ মেলা আয়োজনের বিকল্পও আলোচনায় এসেছে। সরকার ইতোমধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে এবং স্টলভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রকাশকদের আশঙ্কা, ভাড়া মওকুফ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ উঠে আসবে না। তাঁদের মতে, লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মতামত নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে অধিকতর সমন্বিত পদক্ষেপ।
