এম. হাসান
মানুষের জীবনে প্রেরণা একটি অদৃশ্য শক্তি, যা তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়, স্বপ্ন পূরণের পথে দৃঢ় করে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও টিকে থাকার সাহস জোগায়। প্রেরণা ছাড়া মানুষের জীবন যেন দিকহীন নৌকা, যা স্রোতের টানে ভেসে যায় কিন্তু কোনো লক্ষ্যেই পৌঁছাতে পারে না। তাই প্রেরণার প্রয়োজনীয়তা মানুষের জীবনে অপরিসীম।
মানুষের জীবনে প্রেরণা একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি ছাড়া মানুষ তার লক্ষ্য খুঁজে পায় না, কষ্টের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, কিংবা সাফল্যের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে না। তাই জীবনে প্রেরণা জাগ্রত রাখা জরুরি তা হোক অন্তর্নিহিত, যেমন নিজের আগ্রহ ও স্বপ্ন, অথবা বহিঃপ্রেরণা, যেমন পুরস্কার ও সামাজিক স্বীকৃতি। সঠিক প্রেরণা মানুষের জীবনে আলোর দিশা দেখায়, তাকে করে তোলে আরও শক্তিশালী, ইতিবাচক ও সফল।
মানুষ তখনই সফল হয়, যখন তার জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে। কিন্তু শুধু লক্ষ্য থাকলেই হয় না, সেই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। এখানে প্রেরণাই মানুষকে জাগ্রত রাখে। যেমন একজন শিক্ষার্থী ভালো ফলাফলের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু প্রতিদিন পড়াশোনায় তাকে ধরে রাখে তার ভেতরের প্রেরণাই। জীবনে প্রতিকূলতা আসবেই। ব্যর্থতা, দুঃখ বা সমস্যার কারণে অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু যার ভেতরে প্রেরণা আছে, সে সহজে ভেঙে পড়ে না। প্রেরণা তাকে মনে করিয়ে দেয় ‘আমি পারব’, আর এই বিশ্বাসই তাকে আবারও চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
প্রেরণাপ্রাপ্ত মানুষ সবসময় ইতিবাচকভাবে চিন্তা করে। সে সমস্যায় সুযোগ খোঁজে, আর ব্যর্থতাকে শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে। ইতিবাচক মনোভাব জীবনে আনন্দ আনে, যা সম্পর্ক, কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
প্রেরণা মানুষকে তার সীমাবদ্ধতার বাইরে যেতে উৎসাহিত করে। নতুন দক্ষতা অর্জন, কঠিন কাজ সম্পন্ন করা বা নিজের ভেতরের সামর্থ্যকে আবিষ্কার সবই প্রেরণার ফল। একজন বিজ্ঞানী রাত জেগে গবেষণা করেন, একজন লেখক প্রতিদিন লিখে যান, বা একজন ক্রীড়াবিদ অদম্য অনুশীলন করেন এ সবই প্রেরণার শক্তি।
শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যদের কল্যাণেও প্রেরণা মানুষকে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। কেউ সমাজসেবা করে, কেউ পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে, কেউ আবার শিক্ষাদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলে। এভাবে প্রেরণা শুধু ব্যক্তির নয়, সমাজেরও উন্নতি ঘটায়।
প্রেরণার বিভিন্ন ধরণ :
আমরা প্রেরণাকে মূলত দুই ধরনের মধ্যে ভাগ করতে পারি: অন্তর্নিহিত এবং বহিঃপ্রেরণা। এদের আবার কিছু উপধরণও রয়েছে।
অন্তর্নিহিত প্রেরণা অন্তর্নিহিত বা অভ্যন্তরীণ প্রেরণা আসে আমাদের ভেতর থেকে। এটি তখনই ঘটে যখন আপনি কোনো কাজ শুধুমাত্র নিজের আনন্দ, আগ্রহ, আবেগ বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের কারণে করেন। এই ধরনের প্রেরণার পুরস্কারও আসে ভেতর থেকেই যেমন জীবনের লক্ষ্য পূরণ করার আনন্দ বা অর্থপূর্ণ কিছু করার তৃপ্তি। তাই এ ধরনের প্রেরণা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে কোনো লক্ষ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।
বহিঃপ্রেরণা:
বহিঃপ্রেরণা আসে বাইরের উপাদান থেকে। যেমন : পুরস্কার পাওয়া বা শাস্তি এড়ানো। আপনি কোনো কাজ শেষ করতে পারলে বা করতে না পারলে তার ভিত্তিতে এই প্রেরণা টিকে থাকে। এই প্রেরণা সাধারণত সাময়িক হয়, তাই স্বল্পমেয়াদি বা মাঝারি মেয়াদি কাজের জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন তাৎক্ষণিক পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি পায়, তখন তাদের প্রেরণা বেড়ে যায়।
উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যদি ভালো ফলাফল করে শুধু ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে, তবে সেটি বহিঃপ্রেরণা। আবার, যদি সে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয় কেবল বিষয়বস্তুর প্রতি তার প্রকৃত আগ্রহের কারণে, তবে সেটি অন্তর্নিহিত প্রেরণা।
অন্তর্নিহিত প্রেরণার ৫ ধরণ :
অনেক কিছুই একজন মানুষকে ভেতর থেকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। নিচে কিছু সাধারণ উদাহরণ দেওয়া হলো। চেষ্টা করুন দেখার জন্য এগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার সঙ্গে মিলে যায়। এগুলো মনে রাখা ভালো, কারণ এগুলোই আপনাকে মনে করিয়ে দেবে কেন আপনি আসলে যা করছেন তা করছেন।
অন্তর্নিহিত প্রেরণার ধরণ :
১. শেখার প্রেরণা :
এই ধরনের প্রেরণায় আপনাকে চালিত করে শেখার ইচ্ছা। আপনি যা অর্জন করতে চাইছেন তা রোমাঞ্চকর মনে হয়, কারণ এটি আগে কখনো করেননি। নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা বা পুরোনো দক্ষতাকে আরও উন্নত করা আপনাকে আনন্দ দেয়। এখানে কাজ শেষ করার পর পাওয়া পুরস্কারের চেয়ে কাজটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্ঞান অর্জনের তাড়নায় কাজ করেন। তার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু পড়া ও শেখাই তাকে অনুপ্রাণিত করে।
২. মনোভাবের প্রেরণা:
যদি আপনার মনোভাবের প্রেরণা থাকে, তবে আপনি ইতিবাচক হতে ভালোবাসেন এবং ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে চান। এটি মানুষকে ভালো অনুভূতি দেওয়ার সাথে সম্পর্কিত। তাই আপনি এমন কাজ খুঁজে নেন যা অন্যদের মাঝে আনন্দ ছড়াতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: একজন জিম ট্রেইনার হাসিখুশি মনোভাব নিয়ে মানুষকে ওয়ার্কআউটের সময় আনন্দ দেয়। এটাই তাকে প্রতিদিন কাজে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
অন্তর্নিহিত প্রেরণার ধরণ :
৩. সাফল্যের প্রেরণা:
এই ধরনের প্রেরণায় মূল লক্ষ্য হলো কাজ শেষ করা বা লক্ষ্য অর্জন করা। পুরস্কার বা সম্মাননা এখানে বড় বিষয় নয় বরং শেষ লাইন পার হওয়ার আনন্দই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি দেয়।
উদাহরণ: একজন পেশাদার অ্যাথলেট জিততে চায়—পুরস্কার বা খেতাব যাই হোক না কেন। তার কাছে জেতাই হলো মূল লক্ষ্য, যা পুরো মৌসুমের কষ্টকে সার্থক করে তোলে।
৪. সৃজনশীলতার প্রেরণা:
আপনি যদি সৃজনশীলতায় প্রেরণা খুঁজে পান, তবে বুঝতে হবে আপনি স্বাধীনভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে ভালোবাসেন। যখন আপনাকে নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তখনই আপনি সবচেয়ে আনন্দ পান।
উদাহরণ: একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে যদি অতিরিক্ত নির্দেশনা দিয়ে কাজ করানো হয়, তবে তিনি বিরক্ত বোধ করেন। কিন্তু সৃজনশীল মানুষ হিসেবে যখন তাকে নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তখনই তিনি সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন।
৫. শারীরবৃত্তীয় প্রেরণা :
এই প্রেরণা আসে মানুষের প্রাথমিক শারীরিক চাহিদা থেকে যেমন খাবার, পানি বা আশ্রয়। হাজার বছরের বিবর্তন আমাদের ভেতর এই প্রেরণাকে গড়ে তুলেছে।
উদাহরণ: ড. আব্রাহাম মসলো তার ঐরবৎধৎপযু ড়ভ ঘববফং তত্ত্বে মানুষের মৌলিক প্রেরণাগুলোকে গুরুত্ব অনুযায়ী সাজিয়েছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, প্রথমে শারীরিক চাহিদা পূরণ করতে হয়। ধাপে ধাপে এগুলো পূরণ হওয়ার পর মানুষ আত্ম-উপলব্ধি বা ঝবষভ-অপঃঁধষরুধঃরড়হ এর দিকে অগ্রসর হয়।
তাহলে আপনার অন্তর্নিহিত প্রেরণা কোনটি?
ইবঃঃবৎটঢ়-এর মতে, নিজেকে জানা এবং বোঝা খুব জরুরি কারণ এভাবেই আপনি উৎপাদনশীল থাকতে পারবেন, এমনকি যখন আপনার প্রেরণা কমে যায় তখনও।
বহিঃপ্রেরণার ৪ ধরণÑ
অন্তর্নিহিত প্রেরণার মতোই কিছু বাইরের উপাদানও আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করে। সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এ প্রেরণাগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১. প্রণোদনা প্রেরণা : এই প্রেরণা পুরোপুরি নির্ভর করে বাইরের পুরস্কারের ওপর। যেমন একটি ইঁদুর যেমন পনিরের লোভে কাজ করে, তেমনি আপনিও কাজটি করার চেয়ে কাজ শেষে কী পাবেন সেটিই বেশি গুরুত্ব পায়।
উদাহরণ: ব্যায়াম করার পর নিজেকে প্রিয় খাবার খাওয়ার অনুমতি দেওয়া। এখানে খাবারটাই আসল পুরস্কার, যা আপনাকে ব্যায়াম শেষ করতে উৎসাহিত করে।
২. ভয়ের প্রেরণা : এখানে প্রেরণা আসে ভয় থেকে অর্থাৎ কোনো অপ্রীতিকর পরিণতি এড়ানোর জন্য কাজ করতে হয়। কাজটি করতে আপনার ইচ্ছা না থাকলেও খারাপ কিছু এড়াতে হলে আপনাকে করতে হয়।
উদাহরণ: আপনি হয়তো টিভি কিনতে চান, কিন্তু জরুরি পরিস্থিতির ভয়ে বেতনের একটি অংশ সঞ্চয় করেন। এই ভয়ের প্রেরণা খারাপ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তা অর্জনে সাহায্য করে।
৩. ক্ষমতার প্রেরণা : নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কিছু মানুষ এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে অন্যদেরও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ক্ষমতার ব্যবহার অনেক রকম হতে পারে কখনো খারাপ উদ্দেশ্যে, আবার কখনো ভালো উদ্দেশ্যে।
উদাহরণ: একজন রাজনীতিবিদ রাষ্ট্রপতি হতে চান, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন তার ধারণাগুলো সমাজের জন্য ভালো। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের জন্য তার ক্ষমতা দরকার।
৪. সামাজিক প্রেরণা : সামাজিক প্রেরণা হলো কোনো গোষ্ঠী বা সমাজে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ইচ্ছা। এখানে আপনি প্রেরণা পান এই ভেবে যে, অন্যরা আপনার সম্পর্কে কী ভাবে।
উদাহরণ: আপনি নতুন বন্ধুদের কাছে ভালো লাগার জন্য সক্রিয়ভাবে শোনা বা সুন্দরভাবে কথা বলার মতো সামাজিক দক্ষতা শিখতে সময় দেন।
কীভাবে প্রেরণার ধরণগুলোকে কাজে লাগাবেন
শুধু প্রেরণা থাকলেই হবে না তা কাজে রূপান্তর করতে হবে। নিচে কিছু কৌশল দেওয়া হলো যেগুলো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারেন:
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: সাফল্যের প্রেরণায় যারা চালিত হন, তাদের জন্য স্পষ্ট লক্ষ্য ঠিক করা দারুণ উপায়।
আপনার লক্ষ্য অন্যকে বলুন: সামাজিকভাবে প্রেরিত হলে আপনার লক্ষ্য অন্যদের জানালে আপনি দায়বদ্ধ থাকবেন।
পুরস্কার ব্যবস্থা তৈরি করুন: বাইরের প্রণোদনায় যারা অনুপ্রাণিত হন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। আসলে যেকোনো সাফল্যের পর নিজেকে পুরস্কৃত করা উচিত।
কাদের সাহায্য করেছেন লিখে রাখুন: যদি আপনার মনোভাবের প্রেরণা থাকে, তবে প্রতিদিন শেষে ভাবুন কাকে হাসি উপহার দিলেন। সুখের মুহূর্তগুলো লিখে রাখুন।
কাজের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন: এতে আপনি বুঝতে পারবেন কতটা ভালো করছেন, যা আপনাকে আরও উৎসাহিত করবে।
সক্রিয় থাকুন : সক্রিয় থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং শারীরিক সুস্থতার যত্ন নেওয়া আমাদের শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণের জন্য জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জন করলে অন্যান্য লক্ষ্যও সহজে পূরণ করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান : ব্যায়ামের মতোই শরীরের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ভালো জ্বালানি দরকার। পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর ভালোভাবে কাজ করবে এবং আপনার কর্মক্ষমতাও বাড়বে।
ট্র্যাকিং অ্যাপ ব্যবহার করুন : অনেক অ্যাপ লক্ষ্য ও কাজকে ‘গেমিফাই’ করে তোলে। এগুলো ভার্চুয়াল পুরস্কার দিয়ে আপনাকে বহিঃপ্রেরণায় উৎসাহিত করবে।
ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে সেরা প্রেরণার ধরণ :
প্রেরণার ধরণগুলো সঠিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করলে সেগুলো সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হবে, মিশ্রণ করতে হবে এবং পরিবর্তন করতে হবে। নিচে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
শিক্ষক হলে: আপনি প্রেরণাকে শিক্ষার্থীদের শেখার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। যেমন, যদি কোনো শিক্ষার্থী শেখার জন্য স্বাভাবিকভাবে আগ্রহী না হয়, তবে তাকে উৎসাহ দিতে বহিঃপ্রেরণার পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আবার কিছু শিক্ষার্থী অন্তর্নিহিত প্রেরণায় নিজে থেকেই ভালো করবে। এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও সামাজিকভাবে প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে: একজন টিম লিডার বা ম্যানেজার হলে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সবার অগ্রগতি দৃশ্যমান রাখুন। এতে দলের সদস্যদের সাফল্যের অনুভূতি বাড়বে এবং মনোবল শক্তিশালী হবে। তারা নিজেদের ভেতর থেকেই সফল হওয়ার ইচ্ছা তৈরি করবে।
কর্মী ভালো পারফর্ম না করলে: জেনে নিন তার অন্তর্নিহিত প্রেরণা কী। তার আগ্রহ অনুযায়ী প্রজেক্ট বা কাজ দিলে সে অনেক ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারবে।
প্রেরণা কি নেতিবাচক হতে পারে?
আপনি যখন নিজের জন্য বা অন্যদের জন্য কোনো প্রেরণার কৌশল তৈরি করবেন, মনে রাখবেন প্রণোদনা ইতিবাচকও হতে পারে আবার নেতিবাচকও হতে পারে।
নেতিবাচক প্রণোদনা : নেতিবাচক প্রণোদনা দীর্ঘমেয়াদে প্রেরণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেমন, কোনো কর্মীর মধ্যে ব্যর্থতার ভয় তৈরি করা একটি নেতিবাচক প্রণোদনা। কারণ এটি ভয় এবং ব্যর্থতা এড়ানোর চাপের সাথে যুক্ত। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মীর ওপর মানসিক বোঝা তৈরি হয় এবং তার সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কমে যায়। এমনকি এতে কর্মী ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।
ইতিবাচক প্রণোদনা :
তার পরিবর্তে, দলের সদস্যদের অন্তর্নিহিত প্রেরণার দিকে মনোযোগ দিন। যেমন, যদি কোনো সদস্য শেখার প্রতি আগ্রহী হয়, তবে সেই ইচ্ছাকে কাজে লাগান। এভাবে তাকে এমন কাজ দিন যা সে উপভোগ করে এতে সে আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত থাকবে। পদোন্নতি এবং প্রশংসাও ইতিবাচক প্রেরণার ভালো উদাহরণ।
সামনের পথচলা :
ভিন্ন মানুষকে ভিন্ন জিনিস অনুপ্রাণিত করে। কী আপনাকে চালিত করে তা জানা মানে হলো আপনার মস্তিষ্ককে উৎপাদনশীল হতে ‘চালাকি’ করে ব্যবহার করা। আপনি পুরস্কারের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন, নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, কর্মীদের উৎসাহিত করতে পারেন, কিংবা এমন কাজ খুঁজতে পারেন যা আপনার কাছে আরও অর্থবহ মনে হয়। সঠিক ধরনের প্রেরণা একবার কাজে লাগাতে পারলে আপনিও সফল হতে পারবেন। আর যদি বাড়তি সহায়তা দরকার হয়, তবে ইবঃঃবৎটঢ় আপনার পাশে থাকতে পারে। একসঙ্গে আমরা খুঁজে বের করতে পারব কী আপনাকে সত্যিকারের অনুপ্রাণিত করে, যাতে আপনার ভেতরের প্রেরণার আলো আবার জ্বলে ওঠে।
