মুক্তদেশ ডেস্ক: আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বলে উল্লেখ্য করেছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।
শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১৪ রাজনৈতিক দল-জোটের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মোস্তফা জামাল বলেন, দেশে যে অরাজকতা তার একমাত্র সমাধানের পথ নির্বাচন এটা সরকার বুঝতে পেরেছে। এক বছর আগে যে ফ্যাসিস্ট শক্তি উৎখাত হয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসন করার কোন সুযোগ আমরা দেব না।
বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।
জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ৫ আগস্ত পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যেভাবে একতাবদ্ধ থাকতে চাই যেন ফ্যাসিবাদের দোসরেরা মাথাচাড়া দিতে না পারে। অনতিবিলম্বে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা উচিত।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করুন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন।
বৈঠক পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের যদি কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় তাহলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছি। নির্বাচন আগে অনেক হয়েছে, শুধুমাত্র নির্বাচন দিলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে না, সংস্কার দিয়েও সকল সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য ধারাবাহিক সংগ্রাম করতে হবে। ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদ নির্মূল হবে না।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাববু বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি উন্নতি না হয় তাহলে কিভাবে সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাচ্ছেন? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কিভাবে নির্বাচন হবে? প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে।
বাংলাদেশ জাসদের মোস্তাক আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে গিয়ে যাতে কোনোভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা না হয়।
