আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের তালিকায় রয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া। ইরান নেই এই তালিকায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে এই অভিযোগ করে আসছে আমেরিকা।
আর আগাম পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধের অজুহাতে গত ১৩ জুন ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরাইল। পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হত্যা করা হয় হাজারো নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে। পরে মিত্র দেশকে সহায়তার নামে ২২ জুন ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হয় আমেরিকা। আমেরিকার বিমান এবং নৌবাহিনী ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানÑএই তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ওপর এই আক্রমণ মূলত এই সংঘাত উসকে দিয়েছে।
ইসরাইল ও আমেরিকা ইরানের যেসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তা ইরানের জনগণের সম্পত্তি, কোনো শাসকগোষ্ঠীর নয়। ইরানিরা তাদের দেশের মালিক। এটি একটি সহজ সত্য যা অন্য কারো মাতৃভূমিতে গণহত্যাকারী ইহুদিবাদীরা কখনোই বুঝতে পারবে না।
ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেনি। যদি কিছু হয়, তা হলো তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরিকে আরো ত্বরান্বিত করেছে। পুরো অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার ওপর এই ভয়াবহ আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য যদি ইরান এখন সম্পূর্ণরূপে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে চায়, তাহলে কেউই ইরানকে দোষারোপ করতে পারবে না। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্র আত্মরক্ষার জন্য যা-ই করুক না কেন, ইরানের জনগণের ইচ্ছা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ইরানের জনগণ তাদের মাতৃভূমিতে আক্রমণ, অবকাঠামো ধ্বংস এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করার জন্য কোনো বিদেশি শক্তিকে কখনো ভুলবে না বা ক্ষমা করবে না।
