মুক্তদেশ ডেস্ক: জাপানে ভালুক নিয়ে সমস্যা এখনো কাটেনি। খাবারের সন্ধানে বড় আকারের এসব শিকারি প্রাণী পাহাড়ি বন থেকে বেরিয়ে আসছে এবং দেশটির দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়া ও জনসংখ্যা কমতে থাকা মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত জাপানে ভালুকের আক্রমণে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর আগের অর্থবছরে রেকর্ড ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে জাপান সরকার সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে। এমনকি ভালুক তাড়ানোর জনপ্রিয় রোবট নেকড়ের সরবরাহও কমে গেছে।
ভালুক নিধনের কৌশলে প্রাণীর সংখ্যা কমছে। গত অর্থবছরে প্রায় ১৪ হাজার ভালুক হত্যা করা হয়েছে। তবে প্রধান দ্বীপ হোনশুর কেন্দ্রীয় নাগানো প্রিফেকচারে সংরক্ষণবাদীরা মানুষ ও ভালুক—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। সেন্সর, ফাঁদ এবং জিপিএস পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে গবেষকেরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভালুক হত্যা এড়ানোর পাশাপাশি পুরো জনগোষ্ঠীর সুস্থতাও উন্নত করার চেষ্টা করছেন।
জীববিজ্ঞানী আকিকো তাকিই এএফপিকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তাদের খুব বেশি হত্যা না করলে আরও বেশি ভালুক স্বাভাবিক আয়ু পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সে অর্থে একটি সুস্থ ভালুকের জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।”
তাকিই এমন একটি কর্মসূচিতে যুক্ত আছেন, যার সূচনা হয়েছিল ৩০ বছরেরও বেশি আগে। ১৯৯৫ সালে হোনশুতে ভালুকের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ধীরে ধীরে জিপিএস পর্যবেক্ষণ এবং ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি বেড়া স্থাপনের মতো নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানজুড়ে ভালুকের আক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় প্রাণীগুলোর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা আড়ালে পড়েছে।
তাকিই ও তাঁর সহযোগীরা মনে করেন, শুধু ভালুক নিধন কোনো বাস্তবসম্মত, নৈতিক বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। নাগানোর শিনশু এশীয় কালো ভালুক গবেষণা সমিতির সদস্যরা ভালুক ধরে আবার ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপদ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তাকিই স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক ক্লাস পরিচালনা করছেন, যেখানে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ভালুক এবং মানুষের সঙ্গে এসব প্রাণীর সম্পর্ক সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।
ভালুক নিধন ও সংরক্ষণ—দুই পদ্ধতির সমন্বয়ই সম্ভবত ভবিষ্যতের পথ হতে পারে। তবে তাকিইয়ের মতো সংরক্ষণবাদীরা আশা করছেন, কর্মকর্তারা মানবিক ব্যবস্থার অতিরিক্ত সুবিধাগুলোও বিবেচনা করবেন।
তাকিইয়ের একটি উপস্থাপনার পর এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এএফপিকে বলেন, “মানুষ তাদের বিরক্ত না করলে তাদের সঙ্গে নিরাপদে বসবাস করা সম্ভব—এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।”
