মুক্তদেশ ডেস্ক: স্টিকলব্যাকের আটটি পরিচিত প্রজাতি রয়েছে। এই ছোট মাছেরা উত্তর গোলার্ধজুড়ে মিঠা, লবণাক্ত ও মিশ্র পানিতে বাস করে; এমনকি আর্কটিক মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলেও তাদের দেখা যায়। এদের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় সাত ইঞ্চি হতে পারে। পিঠে দুই থেকে ১৬টি কাঁটার সারি থাকার জন্যও তারা পরিচিত।
লবণাক্ত সমুদ্র থেকে মিঠা পানির হ্রদ—বিভিন্ন পরিবেশে বসবাস করায় স্টিকলব্যাকের আবাসস্থল কখনো স্বচ্ছ, আবার কখনো ঘন ঘোলাটে হতে পারে। পানিতে কাদা, শৈবাল বা পলির মতো ক্ষুদ্র কণা মিশে পানি ঘোলা হয়ে যাওয়াকে টার্বিডিটি বা ঘোলাভাব বলা হয়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও কৃষিকাজ, খনন, নির্মাণ ও অন্যান্য দূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে নদী ও উপকূলীয় পানিতে ঘোলাভাব বাড়ছে এবং দৃশ্যমানতা কমছে। ফলে স্টিকলব্যাকের মতো জলজ প্রাণীদের খাবার, সঙ্গী বা শত্রু শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
“এই সময়ে আমরা দেখছি, আবহাওয়া কখনো গরম ও শুষ্ক, আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাতের দিকে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর ফলে নদী ও খালে হঠাৎ করে কাদাময়, অত্যন্ত ঘোলাটে পানির ঢল নামছে,” বলেছেন গবেষণার সহলেখক ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত পরিবেশবিদ ড. শন র্যান্ডস। “মাছেরা যে পরিবেশের বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তা জানা স্বস্তিদায়ক।”
গবেষণায় দলটি পানি ঘোলাটে হয়ে গেলে থ্রি-স্পাইন্ড স্টিকলব্যাকের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। পানিতে হঠাৎ খাবার ছেড়ে দেওয়ার পর মাছেরা কোন দিকে সাঁতার কাটে, সেটিও তারা নথিবদ্ধ করে।
ঘোলাটে পানিতে থাকা মাছেরা স্বচ্ছ পানির মাছের তুলনায় খাবারের দিকে সাঁতার কাটতে বেশি সময় নেয়। তবে স্বচ্ছ ও ঘোলাটে—দুই ধরনের পানিতেই বড় দলে থাকা মাছেরা দ্রুত সাড়া দেয়।
ঘোলাটে পানিতে সাঁতার কাটছে মাছ
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘোলাটে পানিতে মাছেরা স্বচ্ছ পানির মাছের তুলনায় খাবারের দিকে যেতে বেশি সময় নেয়। তবে বড় দলে থাকা মাছেরা সামগ্রিকভাবে দ্রুত সাড়া দেয়। ছবি: Christos Ioannou
মাছেরা কীভাবে একসঙ্গে চলাফেরা করছে, সেটিও খাবারের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। ঘোলাটে পানিতে থাকা ছোট দলগুলো একই দিকে কাছাকাছি সাঁতার কাটলে দ্রুত খাবারে পৌঁছাতে পেরেছে। বিপরীতে, স্বচ্ছ পানিতে বড় দলের মাছেরা অতিরিক্ত সমন্বয় করে চললে খাবারের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ধীর হয়েছে।
খাবার পানিতে ছাড়ার আগে দেখা যায়, ঘোলাটে পানির মাছেরা একে অপরের আরও কাছাকাছি থাকে, তাদের চলাফেরার দিক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং কাছের দলসদস্যদের আচরণে তারা আরও দ্রুত সাড়া দেয়।
গবেষকদের মতে, এসব ফলাফল ইঙ্গিত করে যে পানিতে দৃশ্যমানতা কমে গেলে স্টিকলব্যাকেরা নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়িয়ে সেই সমস্যা সামাল দিতে পারে।
গবেষণার সহলেখক ও আচরণগত পরিবেশবিদ ক্রিস্টোস ইয়ানু বলেন, “পানিতে অপ্রত্যাশিতভাবে খাবার ছেড়ে দিলে পানি ঘোলাটে অবস্থায় মাছেদের সেটি খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগে। এটি স্বাভাবিক এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণীর ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা গেছে। তবে আমরা দেখে আনন্দিত হয়েছি যে, স্টিকলব্যাকেরা তাদের দলবদ্ধ সাঁতারের আচরণ বদলে এই চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে তাদের দল আরও সমন্বিত হয়ে ওঠে; মাছেরা একে অপরের সঙ্গে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করে এবং নিজেদের অবস্থান সামঞ্জস্য করে। এর ফলে সমন্বয়হীন অবস্থার তুলনায় তারা দ্রুত খাবার খুঁজে পায়।”
এই উন্নত সামাজিক আচরণ ঘোলাটে পরিবেশে বসবাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং খাবার পাওয়ার সুযোগ এলে দ্রুত সাড়া দিতে মাছেদের সাহায্য করতে পারে।
র্যান্ডস বলেন, “প্রাণীরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় তাদের আচরণের নিয়ম বদলাতে পারে—এটি জানা স্বস্তিদায়ক। কারণ, এতে বোঝা যায় মানুষের কারণে তাদের আবাসস্থলে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা মোকাবিলার জন্য এই ছোট মাছেদের কিছু অতিরিক্ত কৌশল রয়েছে।”
