মুক্তদেশ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের তথ্য এবং উভয় দেশের বিবৃতি অনুযায়ী, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এতে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ থেকে বিরত রাখা এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই চুক্তিকে সম্ভাব্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরানে
ইরান বলছে, সমঝোতা কার্যকর হয়েছে:
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন সমঝোতাটি চূড়ান্ত করে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবায়ন নজরে রাখবে তেহরান:
বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা বাস্তবায়ন করছে কি না তা ইরান “কোনো ছাড় ছাড়াই” পর্যবেক্ষণ করবে। ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে ইরানও নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করবে না। তিনি আবারও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বিষয় নয়।
পারমাণবিক আলোচনা ৬০ দিনের বেশি সময় নিতে পারে:
বিশেষজ্ঞ কেনেথ কাটজম্যান বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা নির্ধারিত ৬০ দিনের চেয়েও বেশি সময় নিতে পারে। তিনি বলেন, বিষয়গুলো “খুব বিস্তারিত ও কঠিন”। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, যাচাই ব্যবস্থা ও পরিদর্শনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ কাজ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে
ইরান চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে ট্রাম্প:
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, জাতিসংঘে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এবং সিনেটর বিল ক্যাসিডিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের এই অন্তর্বর্তী চুক্তির সমালোচনা করেছেন।
সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কঠোর নয়। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেছেন তারা।
কিছু রিপাবলিকান এই চুক্তিকে ২০১৫ সালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেটি ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে বাতিল করেছিলেন।
লেবাননে
লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারে কয়েক মাস লাগতে পারে:
বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট গবেষক রামি খৌরি বলেছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার শিগগির হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা শেষ হতে “চার থেকে পাঁচ মাস” সময় লাগতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের আরও বড় সমস্যাগুলোর সমাধান প্রয়োজন হবে।
লেবাননের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত:
দক্ষিণ লেবানন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইনা খোদর জানিয়েছেন, সেখানে সংঘাত এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক বাসিন্দা এখনো উদ্বিগ্ন—ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে কি না। কয়েক মাসের লড়াই ও ধ্বংসের পর দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সীমান্তের কৌশলগত কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা ইসরায়েল চালিয়ে যেতে পারে।
