মুক্তদেশ ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন হবে কি না—এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।
সকালে সালমান-আনিসুলকে কারগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্য তুলে ধরেন এবং আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আরজি জানান। এরপর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তি খণ্ডনে বক্তব্য তুলে ধরেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করে প্রসিকিশন বা রাষ্ট্রপক্ষ। এতে দুই আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিসুল ও সালমানের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে রংপুরে আবু সাঈদসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ইমরান হোসেনসহ ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুরুতর জখম করে।
গভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টারগভীর সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই এ দুই আসামির প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডাররা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানীর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় সিফাত হাওলাদারকে হত্যা করে এবং অসংখ্যা ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আখতারুজ্জামানকে হত্যা এবং অসংখ ছাত্র-জনতাকে আহত করা।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুর-২ ও মিরপুর-১০ এলাকায় ফারুল হোসেনসহ ১২ জনকে হত্যা ও অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা।
পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-২ মিরপুর-১০ গোলচত্বর, মিরপুর-১৩ জুটপল্লি, মিরপুর-১৪ ও আশপাশের এলাকায় আল আমিন হোসেনসহ ১৬ জনকে হত্যা ও অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করার অভিযোগ।
এছাড়াও আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দায়ে বলা হয়, আনিসুল হক জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ২৮৬টি মামলা করান। যেখানে সাড়ে চার লাখ ছাত্র-জনতাকে আসামি করা হয়েছিল। এ ছাড়া সালমান এফ রহমানের সঙ্গে ফোনালাপে আনিসুল হক কারফিউ দিয়ে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে বলেছিলেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই একদল ব্যবসায়ীকে নিয়ে সালমান এফ রহমান গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সেই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ছাত্র-জনতাকে দমনে শেখ হাসিনার হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়ন কাজের সমর্থন করেন এবং জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মাধ্যমে হত্যা, নির্যাতনে শেখ হাসিনাকে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন সালমান এফ রহমান।
