মুক্তদেশ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এবং জনজীবনকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে স্পষ্ট হয়েছে, স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’
আজ মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আজ থেকে আমাদের সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে; বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। বিএনপি একুশ, একাত্তর ও চব্বিশকে ধারণ করে বলেই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সোমবার সেই শহীদদের স্মরণে আমরা ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। যারা মুখে চব্বিশকে ধারণ করার কথা বলে, এমন সব রাজনৈতিক দলকে আমরা দাওয়াত দিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাই শহীদদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তাদের মুখে এক কথা, আর কর্মে আরেক প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং টিকিট বিক্রি করার রাজনীতি করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলোই আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে।’
ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যের ডাক দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়েও যখনই তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখনই দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। সেই কুচক্রী মহল আবার সজাগ হয়ে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাই উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশ থেকে এসে কেউ আমাদের দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে।’
জনসভায় তিনি উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু এবং শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
