মুক্তদেশ ডেস্ক: চীনের ‘মেংশিয়াং’ (Dream) সমুদ্র খনন জাহাজ গভীর সমুদ্রে খননের ক্ষেত্রে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের অববাহিকা থেকে ব্যাসল্টের নমুনা সংগ্রহের পর দেশটির গভীর সমুদ্র খনন সক্ষমতা এখন ৫ হাজার মিটার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়।
গভীর সমুদ্রের সমুদ্রতলীয় অববাহিকা থেকে খনন জাহাজের মাধ্যমে কঠিন শিলার নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পর চীন এখন বিশ্বের তৃতীয় দেশ। সম্প্রতি দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী গুয়াংজুতে ফিরে এসেছে জাহাজটি। দক্ষিণ চীন সাগরে ৩০ দিনের পরীক্ষামূলক বৈজ্ঞানিক খনন অভিযান শেষে এটি বন্দরে ফেরে।
অভিযানের সময় জাহাজটি সর্বোচ্চ ৪,৯২৯ দশমিক ১৭ মিটার গভীরতায় পৌঁছায় এবং সর্বোচ্চ ৮৬৪ দশমিক ৭৭ মিটার গভীরে খনন করতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে চীনের নিজস্বভাবে পরিচালিত সমুদ্র খনন অভিযানে নতুন জাতীয় রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে।
নিজেদের তৈরি রোটারি কোরিং টুল ব্যবহার করে গবেষক দলটি ৪ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ ব্যাসল্ট শিলার কোর নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর ফলে গভীর সমুদ্রের অববাহিকা থেকে খনন জাহাজের মাধ্যমে কঠিন শিলার নমুনা সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাশাপাশি চীন বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ওশান ডিসকভারি প্রোগ্রাম (IODP)-এর মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কোরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কয়েকটি খনন কার্যক্রমে কোর নমুনা পুনরুদ্ধারের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। কোরিংয়ের দক্ষতা, নমুনার মান এবং কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা—সবই IODP-এর উন্নত মানদণ্ড পূরণ করেছে।
চ্যালেঞ্জপূর্ণ অতি গভীর পানিতে কূপ খননের ঝুঁকি প্রতিরোধ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দলটি একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
প্রথমবারের মতো জাহাজে থাকা রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল (ROV) দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। দুটি ROV ৪ হাজার মিটার গভীরতায় মোট ৩৫৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি একটানা অভিযান চলে সর্বোচ্চ ১০৩ ঘণ্টা। তাদের কর্মক্ষমতা আন্তর্জাতিক উন্নত মানে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর মাধ্যমে চীন অতি গভীর সমুদ্রে বৈজ্ঞানিক খননের পুরো কার্যপ্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো IODP-এর মানদণ্ড অনুসরণ করে সংগৃহীত কোর নমুনার প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল নমুনা সংগ্রহ, নথিভুক্তকরণ, বর্ণনা, খণ্ডীকরণ, স্ক্যানিং, নমুনা নির্বাচন, পরীক্ষা এবং সংরক্ষণ—সব ধাপ।
এই সমুদ্র অভিযানে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান শিলার কোর নমুনা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমুদ্রতলের বিস্তার বা সিফ্লোর স্প্রেডিং-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগর কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে, সে সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণাও এসব আবিষ্কার নতুনভাবে গড়ে দিতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রাচীন পরিবেশগত বিবর্তন বা প্যালিও-এনভায়রনমেন্টাল ইভোলিউশন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি অতি গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধান ও উন্নয়নেও এই আবিষ্কারের বড় গুরুত্ব রয়েছে
