মুক্তদেশ ডেস্ক: ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর আবারও হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তদারককারী খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স রোববার এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর ফলে কয়েক মাস ধরে সরাসরি হামলা তুলনামূলকভাবে কম থাকার পর আবারও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে ওয়াশিংটনকে সহায়তা না করার জন্য সতর্ক করেছে ইরান।
ইরানের সামরিক কমান্ড বলেছে, যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলায় সহায়তা করবে, তাদের ‘সহযোগী হিসেবে বিবেচনা’ করা হবে এবং তারা ইরানের পাল্টা জবাবের মুখে পড়তে পারে।
ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি এখন ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। তিনি বলেন, তার হাতে আরও সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পথে তিনি কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার আইনপ্রণেতাদের বলেন, কূটনীতির মাধ্যমে অর্জনগুলো নিশ্চিত করার আগে প্রতিপক্ষকে পিছু হটাতে তেহরানের সামরিক শক্তি ব্যবহার করা উচিত।
তেহরান কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ও মার্কিন হামলা বন্ধ করা, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
গালিবাফ বলেন, ইরানের দাবি অনুযায়ী আগের একটি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি জানান, ইরানি কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বিমুখী বার্তা দিচ্ছেন। একদিকে তারা কূটনীতির জন্য দরজা খোলা রাখার সংকেত দিচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন করে লড়াই শুরু হতে পারে—এমন প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
কাতারের মধ্যস্থতার চেষ্টা
দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী উপসাগরীয় দেশ কাতার জানিয়েছে, তাদের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশের রাজধানীর মধ্যে যাতায়াত করছেন এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, দোহা মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পেয়েছে যে ওয়াশিংটন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কমেছে
ইতোমধ্যে এই সংঘাত হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব ফেলছে। উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই সরু জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি।
যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হয়।
জুনে হওয়া ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক পূর্ণমাত্রার লড়াই কমিয়ে এনেছিল। তবে গত মাসে সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা আবার বেড়েছে।
রিপাবলিকান কৌশলবিদ ও সাবেক হোয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা মার্ক ফাইফ্লে আল জাজিরাকে বলেন, দুই দেশই ‘এই স্থবির সংঘাতের মধ্যে আটকে আছে’ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের আগে একে অপরের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
