মুক্তদেশ ডেস্ক: ‘স্থিতিশীলতার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা, যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এগিয়ে নেওয়া’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১৩তম বেইজিং শিয়াংশান ফোরাম।
চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন ফোরামে অংশ নেওয়া ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, অব্যাহত সংলাপের মাধ্যমে সীমান্ত উত্তেজনা কমবে এবং ধীরে ধীরে সীমান্ত বিরোধের সমাধানের দিকে অগ্রগতি হবে। এর ফলে দুই দেশের বৃহত্তর সহযোগিতাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার শেষ হওয়া এই ফোরামে ভারতের বেশ কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির পর এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো। প্রায় ১০০টি দেশ, অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে মতবিনিময়েরও সুযোগ তৈরি হয় ফোরামটিতে।
ভারতের ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশনের বিশিষ্ট ফেলো অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবীন্দ্র সিং পানওয়ার ফোরামের ভেন্যুতে গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রথমবারের মতো ভারতের তিনজন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেই এই ফোরামে অংশ নিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর এটি একটি ইঙ্গিত। এর লক্ষ্য হলো সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং সীমান্ত বিরোধের সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রেও অগ্রগতি ঘটানো।
পানওয়ার বলেন, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বহুপক্ষীয়তাবাদ এবং ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের প্রতি চীন ও ভারতের সমর্থন রয়েছে।
চীন ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে পানওয়ার বলেন, ‘এ দিকে অগ্রগতির একটি গতি তৈরি হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
একই মত প্রকাশ করেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল শেখর সিনহা। তিনি বলেন, সীমান্ত ইস্যুর সমাধান একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হবে। এর শুরু হতে পারে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং সীমান্ত বিষয়ে দুই পক্ষের যে বিষয়গুলোতে অভিন্ন বোঝাপড়া রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে।
যেসব বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আরও সংলাপের প্রয়োজন হবে বলেও তিনি জানান।
চীন ও ভারতের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমান্ত ইস্যুতে ২৫তম দফার বৈঠকের পর ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের এসব মন্তব্য এলো। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে আট দফা ঐকমত্য হয়েছে।
দুই পক্ষই দুই দেশের নেতাদের মধ্যে অর্জিত ঐকমত্য অনুসরণ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুই বিশেষজ্ঞ তাঁদের নিজ নিজ পেশাগত ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্পস অব সিগন্যালসে দায়িত্ব পালন করা পানওয়ার বর্তমানে এআই নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, গত চার বছর ধরে তিনি ‘ট্র্যাক-টু’ কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরপর অনলাইনে চীনা সমপক্ষের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। এ ছাড়া বছরে অন্তত দুবার সরাসরি বৈঠকও করেন তারা।
বেইজিং শিয়াংশান ফোরামে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি এআই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসব আলোচনায় পারমাণবিক বিষয়, রাসায়নিক অস্ত্র এবং সম্ভাব্য অস্তিত্বগত হুমকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাকেও সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফোরামের ‘সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন সিনহা। তিনি বলেন, জলদস্যু দমন এবং জাহাজে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার মতো অভিযানে চীন ও ভারতের নৌবাহিনী সহযোগিতা করেছে।
দুই বিশেষজ্ঞই আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের মতপার্থক্য মোকাবিলা করার পাশাপাশি সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে পারবে।এদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভিসা দেয়া হলেও টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা উল্লেখ করেছে, এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ শান্তি আলোচনায় কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নষ্ট করতে দখলদার শক্তিকে উৎসাহিত করবে।
