মুক্তদেশ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ছয় মাস পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আসলে কী কী পরিবর্তন ঘটেছে, তা পর্যালোচনা করা জরুরি।
২০২৫ সালের জুনে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বলা হয়েছির, সামনে উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ সময় আসছে এবং শেষ পর্যন্ত গভীরতর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। চলতি মাসের শুরুতে আমি লিখেছিলাম, উপসাগরীয় দেশগুলো আর পুরোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারে না এবং তাদের নিজেদের একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এখন পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ মোটামুটি সেই দুই বিশ্লেষণের দিককেই সমর্থন করেছে।
গত ছয় মাসে যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, যুদ্ধ শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট পরিবর্তন করছে না বা নতুন নিরাপত্তা চুক্তির জন্ম দিচ্ছে না। এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে চিন্তাভাবনাই বদলে দিতে শুরু করেছে—তারা কার সঙ্গে কাজ করবে, অংশীদারদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করবে এবং সংকট শুরু হলে সহযোগিতা আসলে কী রূপ নেবে।
কিছু পরিবর্তন খুবই স্পষ্ট। যুদ্ধ সরাসরি দেখিয়ে দিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য ধরনের বিঘ্নের কারণে শহর, জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর ও নৌপথ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। যেসব হুমকি এতদিন মহড়া ও পরিকল্পনার নথিতে আলোচিত হতো, সেগুলো এখন তাৎক্ষণিক বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় নিরাপত্তা একটি পরিচিত কাঠামোর ওপর নির্ভর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রধান বহিরাগত নিরাপত্তা ছাতার ভূমিকা পালন করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য পশ্চিমা রাজধানীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং জিসিসি এমন একটি আঞ্চলিক কাঠামো দিয়েছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা সমন্বয় অবশ্য অসম ছিল।
এই ব্যবস্থা বিলীন হয়ে যায়নি। আর তা হওয়াও উচিত নয়। উপসাগরীয় নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো অপরিহার্য এবং ভবিষ্যৎেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিবর্তনটা হলো—শুধু এই কাঠামোই যথেষ্ট, এমন ধারণা আর আগের মতো নেই।
যুদ্ধ একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে। তুরস্কের গুরুত্ব বাড়ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাও বেড়েছে। বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্কগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি কার্যকারিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং পুরোনো ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থাও গড়ে উঠছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এর সাম্প্রতিকতম এবং সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ঘোষণার পরপরই ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা শুরু হয়।
তবে এই নীতি উপসাগরীয় নিরাপত্তায় নতুন নয়। জিসিসির বিদ্যমান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলমান যুদ্ধের সময় জিসিসিভুক্ত দেশগুলো বারবার এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মক্কা চুক্তির ভিন্নতা হলো, এটি জিসিসির গণ্ডির বাইরে এই যৌথ প্রতিরক্ষার ধারণা সম্প্রসারিত করেছে এবং সৌদি আরবকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ন্যাটোর সঙ্গে তুলনাটি বোধগম্য হলেও এটি প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ন্যাটোর অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই। বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যও একটি বড় নিরাপত্তা জোটের জন্য বিশেষ উপযোগী নয়, যেখানে একটি মাত্র নেতৃত্ব কাঠামো এবং হুমকি সম্পর্কে একক ধারণা থাকবে।
কোনো উপসাগরীয় দেশের জন্য একদিন হুমকি আসতে পারে একটি রাষ্ট্রের কাছ থেকে, আবার পরের দিন তা আসতে পারে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষের কাছ থেকে। একটি হুমকিকে যে দেশগুলো একইভাবে দেখে, অন্য হুমকির ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। আর কোনো আঞ্চলিক দেশ, যতই সক্ষম হোক না কেন, সব ধরনের সম্ভাব্য জোটের স্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা হিসেবে অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে—এমন সম্ভাবনাও কম।
এর পরিবর্তে যে ব্যবস্থা গড়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে, তা হলো একটি বড় জোটের পরিবর্তে পরস্পর-সংযুক্ত বিভিন্ন অংশীদারত্বের ব্যবস্থা। ভিন্ন ভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। কিছু ব্যবস্থা হবে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতৃত্বে, অন্যগুলোতে আঞ্চলিক বা পশ্চিমা অংশীদাররাও যুক্ত থাকবে।
এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য নেতৃত্ব সম্পর্কেও ভিন্নভাবে চিন্তা করতে হবে। স্থায়ী শ্রেণিবিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো সবসময়ই প্রতিরোধের মুখে পড়বে। উপসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এবং তাদের সক্ষমতাও একে অপরের থেকে ভিন্ন।
তাই হুমকির ধরন অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত। যে দেশ তাৎক্ষণিক বিপদের মুখে পড়বে, প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্য, উত্তেজনা কতটা বাড়ানো গ্রহণযোগ্য এবং নিজেদের ভূখণ্ড কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এসব নির্ধারণে সেই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বই অগ্রাধিকার পাবে। তবে সামরিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব রাজনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে একই হতে হবে এমন নয়।
সমুদ্রভিত্তিক সংকট সবচেয়ে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে যে অংশীদারের নৌ সক্ষমতা সবচেয়ে শক্তিশালী, তাকে দিয়ে। আবার আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে প্রাসঙ্গিক সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি যার, তাকে বড় ধরনের সামরিক ভূমিকা দিতে হতে পারে।
এই ধরনের নমনীয়তাই হয়তো গভীরতর নিরাপত্তা সহযোগিতার একমাত্র বাস্তবসম্মত ভিত্তি। তবে এর জন্য নির্ধারিত সময়ে পরস্পর-সংযুক্ত এই সম্পর্কগুলো কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই আন্তঃকার্যক্ষমতা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একাধিক দেশ যদি সংকটে একে অপরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়, তাহলে তারা কি বাস্তবে তা করতে পারবে? তারা কি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে, নিজেদের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবে, সিদ্ধান্ত সমন্বয় করতে পারবে এবং আগে থেকেই জানতে পারবে—কাকে কী করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে?
একটি দেশের ওপর হামলা হলেই প্রত্যেক অংশীদারকে ঠিক একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, এমন নয়। গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ও রসদ সহায়তা থেকে শুরু করে সমুদ্রপথ সুরক্ষা কিংবা সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ—সহায়তার ধরন অনেক রকম হতে পারে। সংকটের আগেই এসব প্রত্যাশা যত পরিষ্কার থাকবে, সংকট দেখা দিলে প্রতিশ্রুতিও তত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে।
বড় কোনো আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গঠন ছাড়াই কীভাবে গভীরতর সামরিক সমন্বয় সম্ভব, তার উদাহরণ ইতোমধ্যে রয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে কাতারের সামরিক সম্পর্ক এখন আর প্রচলিত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যৌথ স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ও কাতারি সামরিক সদস্যরা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং টাইফুন যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছেন। একই সঙ্গে কাতার ও তুরস্ক একটি সমন্বিত সামরিক কমান্ড কাঠামোও গড়ে তুলেছে।
এসব ব্যবস্থা বর্তমান যুদ্ধের আগেই গড়ে উঠেছিল। তবে যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য-কাতার সম্পর্কও পরীক্ষার মুখে পড়ে। মার্চে যৌথ স্কোয়াড্রনের সঙ্গে পরিচালিত একটি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান কাতারকে লক্ষ্য করে আসা একটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করে।
সমন্বয় সব সময় ১০টি দেশের স্বাক্ষরিত কোনো চুক্তি দিয়ে শুরু করতে হয় না। কখনো কখনো এর শুরু হয় দুটি সামরিক বাহিনী কীভাবে কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করবে, তা শেখার মধ্য দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে না দিয়েও ইউরোপ আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ওয়াশিংটন সম্ভবত উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবেই থাকবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক এবং অন্যান্য সক্ষম অংশীদারের সঙ্গে আরও গভীর সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
গত ছয় মাসের ঘটনাপ্রবাহ এর পক্ষে আরও জোরালো যুক্তি তৈরি করেছে। উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী ক্রমেই একই ধরনের বহু সামরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে—ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তাহীনতা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হুমকি। তাই উপসাগরীয়-ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরবর্তী ধাপের মূল্যায়ন হওয়া উচিত কত অর্থের চুক্তি হয়েছে তা দিয়ে নয়; বরং প্রয়োজনের সময় তাদের সামরিক বাহিনী বাস্তবে একসঙ্গে কাজ করতে পারছে কি না, তা দিয়ে।
এর অর্থ আরও বেশি সামরিক মহড়া, বিভিন্ন দেশের সামরিক সদস্যদের পারস্পরিকভাবে নিয়োগ, যৌথ পরিকল্পনা এবং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বগুলো বৃহত্তর জিসিসি ও আঞ্চলিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
মক্কা চুক্তিকেও একই পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন দেশ রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ মহড়া, আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আরও গভীর প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার পরিকল্পনা করেছে।
তবে আপাতত এগুলো পরিকল্পনা, কার্যকর সামরিক সমন্বয়ের প্রমাণ নয়। চুক্তিটির গুরুত্ব শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সৌদি, তুর্কি ও পাকিস্তানি বাহিনী বাস্তবে সহযোগিতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে কি না তার ওপর। তারা গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করতে পারে কি না, আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয় করতে পারে কি না, একসঙ্গে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারে কি না এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব সামরিক সমস্যার সমাধান করতে পারে কি না—এসবই হবে মূল পরীক্ষা।
তাহলে ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর একটি ভিন্ন ধরনের উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর রূপরেখা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এটি একটি জোট, একজন নেতা কিংবা হুমকি সম্পর্কে একটি মাত্র সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে—এমন সম্ভাবনা কম। উপসাগরীয় অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রকে পরিত্যাগ করছে না, কিংবা কয়েক দশক ধরে কার্যকর থাকা নিরাপত্তা সম্পর্কগুলোও ভেঙে দিচ্ছে না। বরং এসব বিদ্যমান সম্পর্ককে ঘিরেই আরও নমনীয় একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠছে—শক্তিশালী উপসাগরীয় সহযোগিতা, অতিরিক্ত আঞ্চলিক অংশীদারত্ব, ইউরোপীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গভীরতর সম্পর্ক এবং দেশগুলো বাস্তবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, তার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব।
তাৎক্ষণিক হুমকি কমে গেলে এই গতিশীলতার কিছুটা গতি হারাতে পারে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, গত ছয় মাসের শিক্ষা কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী করা যায়।
শেষ পর্যন্ত পরীক্ষাটি খুব সহজ।
পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে, পরবর্তী ড্রোন সীমান্ত অতিক্রম করলে কিংবা পরবর্তীবার কোনো নৌপথ হুমকির মুখে পড়লে—সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কি একসঙ্গে সেই বিপদ দেখতে পারবে, একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে?
যদি পারে, তাহলে এই যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার হয়তো আরেকটি চুক্তি কিংবা আরেকটি জোট হবে না। বরং এটি হতে পারে এমন একটি উপসাগরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার সূচনা, যা আরও সংযুক্ত, আরও নমনীয় এবং যে অঞ্চলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি তৈরি, সেই অঞ্চলের বাস্তবতার সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
