মুুুক্তদেশ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বিরোধী মতকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ‘ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের’ পথে হাঁটছে বলেও দাবি করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে ছাত্রদল সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম আহতদের উদ্ধার করতে গেলে ছাত্রদল বর্বর হামলা চালায়। এতে ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি মো. আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
এছাড়া ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত জুলাইয়ের একটি প্রদর্শনীতে হামলা চালায় ছাত্রদল। একইভাবে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং হলের কক্ষ থেকে কয়েকটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। ঢাকা কলেজেও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে দলটি।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে, সন্তানরা নিরাপদে থাকবে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে। ক্যাম্পাসগুলোয় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি আর শোনা যাবে না, কোনো শিক্ষার্থীকে আর নিপীড়নের শিকার হতে হবে না। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী পথ’ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের হীন কৌশল অবলম্বন করেছে।
ফলশ্রুতিতে আজ পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে বলে মনে করেন তিনি।
জামায়াত সেক্রেটারি বিবৃতিতে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল ‘সশস্ত্র হামলা’ চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে, তা অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও আহত শিক্ষার্থীদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল দাবি করে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে যুবদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হেলমেট পড়ে দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, লাঠিসোটা নিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করছে। ঢাকার বকশিবাজারে হেলমেট পড়ে যুবদল নেতা নয়নের নেতৃত্বে মহড়া দিচ্ছে, মিছিল করছে। এসব কর্মকাণ্ড দেখে বলতে দ্বিধা নেই বিএনপির উপর ফ্যাসিবাদী শাসনের ছায়া ভর করেছে। তারা বিরোধী মতকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের পথে হাঁটছে।
এমন পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনের জন্য একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করে জামায়াত। এসব কার্যক্রমকে চব্বিশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করে জামায়াত সেক্রেটারি।
বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে বিচার ও একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
