মুক্তদেশ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের নিয়োগ নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অনেকের প্রশ্ন সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই কীভাবে একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায়। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীকে জনগণ সরাসরি নির্বাচিত করেন না। বরং হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন থাকা রাজনৈতিক দলের নেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থা ভিন্ন। যদিও সাধারণ নির্বাচনে দলীয় নেতাদের কেন্দ্র করেই প্রচারণা চলে, তবু ভোটাররা মূলত নিজেদের এলাকার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন, প্রধানমন্ত্রীকে নয়।
বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর নাম লিখে ভোট দেন কেবল তার নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটাররাই।
এ কারণে কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনের আগেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে নতুন দলীয় নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম চাইলে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আগাম সাধারণ নির্বাচন ডাকতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি।
তবে সংবিধান অনুযায়ী, তাকে শেষ পর্যন্ত জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৫ আগস্ট ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
এদিকে, বিরোধী দলের কয়েকটি দল অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, বার্নহাম মাত্র এক মাস আগে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য জনগণের কাছ থেকে তার সরাসরি কোনো জাতীয় ম্যান্ডেট নেই।
অবশ্য বার্নহাম এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি যে ইশতেহার নিয়ে জনগণের সমর্থন পেয়েছিল, তিনি মূলত সেই নীতিগুলোই অনুসরণ করবেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মেকারফিল্ড আসনের ভোটাররা উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাকে সংসদে পাঠিয়ে তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।
