মুক্তদেশ ডেস্ক: আরেকটি অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গোলশূণ্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর থেকেই আর্জেন্টিনার মরিয়া চেষ্টা ম্যাচে ফেরার। এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলের দরজা খোলা কঠিণ ছিল লিওনেল মেসির জন্য। সে চেষ্টা না করে বাঁ পায়ের জাদুকর মনযোগ দেন সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোয়। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে অসাধারণ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরান এনসো ফের্নান্দেস। আর ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলী নামা লাউতারো মার্তিনেস খুঁজে নেন জাল। এবারও ডান দিক থেকে মেসির ক্রসে নিখুঁত হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো।
তাতেই হৃদয় ভেঙে যায় ইংলিশদের। দীর্ঘ ৬০ বছর পর শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় হ্যারি কেইনদের। অন্যদিকে চল্লিশের মেসির চোখে এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ফ্রান্সকে হারানো স্পেন। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ১ গোলে। সময় ফুরিয়ে আসছে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হৃৎস্পন্দও বাড়ছে। জাদুকরী কিছু দেখার অপেক্ষায় তারা। তখনই জাদুর ঝাঁপিটা খুললেন জাদুকর লিওনেল মেসি।
৮৫তম মিনিটে ফাঁকায় এনসো ফের্নান্দেসকে পেয়ে আলতো করে বাড়লেন বলটা। এরপর বুলেট শটে সমতা ফেরালেন ফের্নান্দেস। কাজ তখনও শেষ হয়নি। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মেসি ক্রস বাড়ালেন ডি বক্সে। সেই ক্রসেই মাথা ছুঁইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ২-১ গোলের জয় এনে দিলেন লাউতারো মার্তিনেস।
চোখ জুড়ানো দুই অ্যাসিস্টে ম্যাচের নায়ক মেসিই। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই কোয়ার্টার ফাইনালে দুই গোল করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এর একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। অপরটি তো স্বীকৃতি পেয়েছে শতাব্দী সেরারই।
মেসি হয়ত গোল পাননি। তবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুই অ্যাসিস্টই খাদের কিনারা থেকে জয় এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
এই দুই অ্যাসিস্টে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ডটা এখন এককভাবে মেসিরই।
