মুক্তদেশ ডেস্ক: প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরের জাজিরায় এসেছেন মো. মোজাম্মেল হোসাইন নামে এক যুবক। গত শনিবার (১১ জুলাই) পাকিস্তানের লাহোর থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তার প্রেমিকা তানজিলা আক্তারের বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় ইমামের মাধ্যমে শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
ভিনদেশি যুবকের এমন প্রেমকাহিনি ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য। তবে ভালোবাসার এই গল্পের পাশাপাশি স্থানীয়দের একাংশের মনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগও। তানজিলাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার আগে পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তানজিলার সঙ্গে পরিচয় হয় পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের। তানজিলা মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে। পরিচয়ের পর নিয়মিত চ্যাটিং ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গত ১১ জুলাই শনিবার লাহোর থেকে জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় তানজিলার বাড়িতে এসে হাজির হন মোজাম্মেল। পরে জাজিরায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
তানজিলার মা আসমা আক্তার এ বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এত দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।
তবে পরিবারের এই স্বস্তির বিপরীতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদার বলেন, ইদানীং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচারের নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এভাবে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ কারণে পুরো বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনের নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রেমের টানে পাকিস্তান থেকে যুবকের জাজিরায় ছুটে আসার ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চার বছরের প্রেম শেষ পর্যন্ত দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীকে এক ছাদের নিচে এনেছে। তবে নববধূকে নিয়ে পাকিস্তানে যাত্রার আগে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ্ আহম্মদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
