মুক্তদেশ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায় নাকি আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চায়- এই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য (এমপি) রোববার সংসদে বাজেট আলোচনায় বলেছেন, ‘আপনারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন। শুধু একটা কথা বলছি, ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূর্ণতা করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’
বিএনপি সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চাইছে বলে দাবি করেন এটিএম আজহার। তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি মনে করি- আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে- প্রেসিডেন্ট কে হবে?’
সরকারি দলের উদ্দেশে আজহার বলেন, ‘আপনাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ হয়, তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন। বিএনপি দল এত বড়, তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাকে রাখতে হবে?’
বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করে আজহার বলেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাদের জুডিশিয়ালি ক্লিয়ং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল আজহারের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রিভিউয়ে খালাস পান তিনি। আজহার বলেন, এই বাজেট অতি উচ্চাভিলাসী এবং ঋণ নির্ভর এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত। প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল আকারে বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জামায়াত নায়েবে আমির বলেন, রাজস্ব আহরণ অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল- পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধ ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড সরকারের আর্থিক সক্ষমতার উপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ফিনান্সিয়াল ইন্স্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আজহার বলেন, সুদ বড় পাপ। সুদের জর্জরিত আছে বাংলাদেশের জনগণ। বেশির ভাগ মুসলিমের দেশে সুদ আমরা চলতে দিতে পারি না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে যদি ইসলামী শরিয়া মোতাবেক সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প বিবেচনা করতে পারে। যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদ থেকে মুক্ত করতে চাই এক বছরে দুই বছরে পারবো না। তবে যদি প্রচেষ্টা শুরু করি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে।
