মুক্তদেশ ডেস্ক: লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অবসানসংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সব ধরনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে তেহরান।
ইরানের এ সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুলাই সরবরাহের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান আলোচনা স্থগিতের অন্যতম প্রধান কারণ। ইরান মনে করে, লেবাননে হামলা বন্ধ করা যুদ্ধবিরতির একটি মৌলিক শর্ত ছিল। কিন্তু সেই শর্ত বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সংলাপ এবং সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া নিয়ে বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা বা চুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য শর্ত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করে তেহরান।
নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমরা জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যেকোনো চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি একটি অপরিহার্য শর্ত।”
ইরানের এ অবস্থানের ঘোষণার দিনই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলীতে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে।
পরে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমার নির্দেশ হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে অভিযান আরও জোরদার ও সম্প্রসারিত করা।”
হিজবুল্লাহ ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র। এ প্রসঙ্গে ইসমাইল বাঘাই বলেন, “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন এবং লেবাননকে সমর্থন দিতে ইরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।”
