ধর্ম ডেস্ক: ঈদের দিনের কিছু সুন্নত আছে, যেগুলো পবিত্র এই দিনকে আরো মহিমান্বিত করে তোলে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো—
১. অন্য দিনের তুলনায় ঈদের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া।
(বায়হাকি : ৬১২৬)
২. গোসল করা ও পবিত্রতা অর্জন করা : ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা ও মিসওয়াক করা সুন্নত। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ঈদুল ফিতর ও আজহার দিন গোসল করতেন।
(বুখারি : ১/১৩০)
৩. সুন্দর ও উত্তম পোশাক পরিধান করা : ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন, নবীজি দুই ঈদের দিন সবচেয়ে সুন্দর ও উত্তম জামা পরিধান করতেন। তাঁর একটি বিশেষ স্যুট ছিল, যা তিনি দুই ঈদে ও জুমায় পরতেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সা.) প্রতিটি ঈদে ডোরাকাটা পোশাক পরিধান করতেন। (সুনানু বায়হাকি, হাদিস : ৬৩৬৩)
৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে পানাহার থেকে বিরত থাকা : নবী করিম (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ইদগাহে যেতেন না। আর কোরবানির দিন নামাজের আগে খেতেন না। (তিরমিজি : ৫৪২ ও সহিহ ইবনে
হিব্বান : ২৮১৪)
৫. ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির
বলা : ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় এবং ঈদের দিন পুরুষরা উচ্চৈঃস্বরে তাকবির পাঠ করবে।
আর মেয়েরা পাঠ করবে নীরবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাতে তোমরা গণনা পূর্ণ করো এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুণ আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৫)
জিলহজের ৯ তারিখ ফজরের পর থেকে ১৩ তারিখ আসরের সালাত পর্যন্ত্ত মোট পাঁচ দিন তাকবির পাঠ করবে।
(হিদায়া ও ফাতহুল বারি : ২/৫৮৯)
৬. ঈদগাহে আসা-যাওয়ার রাস্তা পরিবর্তন করা : ঈদগাহে যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন করা সুন্নত। যাওয়ার সময় এক রাস্তা দিয়ে গমন করা এবং ফেরার সময় অন্য রাস্তা ব্যবহার করা সুন্নত।
(বুখারি : ৯৮৬)
৭. হেঁটে ঈদগাহে গমন করা : কোনো ধরনের অপারগতা ও অক্ষমতা না থাকলে, হেঁটে ইদগাহে যাওয়া সুন্নত। (তিরমিজি : ১২৯৫)
৮. ঈদগাহে শিশুদের নিয়ে যাওয়া : আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) দুই ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় ফজল ইবনু আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, আব্বাস, আলি, জাফর, হাসান, হোসাইন, উসামা ইবনু জায়েদ, জায়েদ ইবনু হারিসা, আয়মান ইবনু উম্মু আয়মান (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির ও তাহলিল পাঠ করতে করতে বের হতেন।
(সুনানে কুবরা বায়হাকি : ৬৩৪৯)
৯. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা : ঈদের দিন একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নত। হাদিসে বর্ণিত আছে, জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’, আল্লাহ আমার ও আপনার সব ভালো কাজ কবুল করুন।
(ফাতহুল কাদির, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫১৭)
১০. ঈদের খুতবা শোনা : ঈদের নামাজের পর খুতবা প্রদান করা সুন্নত। আর উপস্থিত মুসল্লিদের ওপর তা শোনা ওয়াজিব।
(সুনানু ইবনু মাজাহ : ১০৭৩)
জুমার নামাজের মতো ঈদের নামাজেও দুই খুতবা রয়েছে। আর দুই খুতবার মাঝখানে বসা সুন্নত। (সুনানে কুবরা বায়হাকি : ৬২১৩)
১১. ঈদগাহ থেকে ফিরে নফল আদায়
করা : ঈদের নামাজের আগে ও পরে ঈদের নামাজের স্থানে নফল নামাজ আদায় করা মাকরুহ। ঈদের নামাজের পরে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে দুই রাকাত নফল পড়া সুন্নত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১২৯৩)
১২. সুন্দরভাবে জবাই করা : কোরবানির পশু জবাই করার যন্ত্র ভালোভাবে ধার দেওয়া, প্রাণীকে সুন্দরভাবে জবাইয়ের স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং উত্তমভাবে জবাই করা মুস্তাহাব। (মুসলিম : ৫১৬৭)
১৩. পারলে নিজে জবাই করা : জবাইয়ে পারদর্শী হলে নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবাই করা সুন্নত। অপারগ হলে অন্য মুসলিমকে দায়িত্ব দেওয়া উত্তম। জবাইকারীর মুখ কিবলার দিকে থাকা এবং ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর’ বলে জবাই করা মুস্তাহাব। (বুখারি : ৫২৩৮)
১৪. কোরবানির পর নখ, চুল ও লোম কাটা মুস্তাহাব : ঈদুল আজহার দিন কোরবানির জন্তু জবাই করার পর কোরবানি দাতার নখ ও লোম কাটা মুস্তাহাব। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যার জবাইয়ের প্রাণী রয়েছে, সে তা জবাই করবে। অতএব, যখন জিলহজের চাঁদ উদিত হয়, তখন সে যেন কোরবানির আগ পর্যন্ত তার চুল ও নখের কোনো কিছু না কাটে।’
(মুসলিম : ৫২৩৬ ও আবু দাউদ : ২৭৯৩)
