মুক্তদেশ ডেস্ক: ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের ঐতিহাসিক কামাল মাওলা মসজিদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের রায়ে মধ্যযুগীয় এই স্থাপনাকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করার পর সেখানে মুসলমানদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক, যিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদটির মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বলেন ‘শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটি আমাদের ছিল, আজ আর নেই।’
ধার শহরের ভোজশালা কমপ্লেক্সে অবস্থিত কামাল মাওলা মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। হিন্দু পক্ষের দাবি ছিল, মসজিদের আগে সেখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল। এ দাবির ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে গত শুক্রবার আদালত রায় দেয়, মধ্যযুগে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি মূলত এক হিন্দু দেবীর উদ্দেশে উৎসর্গ করা মন্দির ছিল।
রায়ের পর রোববার থেকে পুরো এলাকায় গেরুয়া পতাকা টাঙানো হয়। সেখানে কট্টরপন্থি হিন্দু যুবকদের ধর্মীয় সংগীত ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই স্থাপন করা হয় দেবীর অস্থায়ী মূর্তি।
স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত মসজিদটি এখন তাদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির দাবি করার ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের দাবি বাড়তে থাকে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো বহু মোগল স্থাপনাকেও বিতর্কের মধ্যে নিয়ে এসেছে। এমনকি বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের নিচেও মন্দিরের অস্তিত্ব খোঁজার দাবি উঠেছে। যদিও তাজমহল মূলত একটি সমাধিসৌধ, তারপরও এটিকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
