মুক্তদেশ ডেস্ক: পবিত্র হজব্রত পালনের মাস জিলহজ—ইসলামের সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাসগুলোর অন্যতম। বিশেষত এ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এ সময়কে নেক আমলের শ্রেষ্ঠ মৌসুম বলা হয়।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিনের আমল নেই।”
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?”
তিনি বললেন,
“জিহাদও নয়। তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জীবন ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।”
—(সহিহ্ বুখারি: ৯৬৯)
এই বরকতময় দিনগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অত্যন্ত মহান। নফল রোজা মানুষের অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টি করে, আত্মসংযম শেখায় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।
হজরত হাফসা (রা.) বলেন,
“রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি আমল কখনো ত্যাগ করতেন না—আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশ দিনের রোজা, প্রতি মাসে তিনটি (আইয়ামে বিজের) রোজা এবং ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত।”
—(সুনানে নাসায়ি: ২৪১৬)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, নবীজি (সা.) জিলহজের প্রথম দিনগুলোতে রোজা রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। তবে কেউ যদি পুরো নয় দিন রোজা রাখতে সক্ষম না হন, তাহলে অন্তত আরাফার দিনের রোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।”
—(সহিহ্ মুসলিম: ১১৬২)
তবে যারা হজ পালন করছেন এবং আরাফার ময়দানে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য এ দিনের রোজা না রাখাই উত্তম। কারণ হজের গুরুত্বপূর্ণ আমল যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে শারীরিক শক্তি ও সক্ষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে অবস্থানরত হাজিদের আরাফার দিনের রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।”
—(সুনানে আবু দাউদ: ২৪৪০)
