মুক্তদেশ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, তাইওয়ান ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেন দুই পরাশক্তির নেতা—চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধারণা করা হয়েছিল, আলোচনার মূল বিষয় হবে সমসাময়িক ভূরাজনীতি। কিন্তু উদ্বোধনী বক্তব্যে সি চিন পিং টেনে আনেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এক যুদ্ধের প্রসঙ্গ।
তিনি উল্লেখ করেন প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের কথা—যে যুদ্ধ খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ সালে এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে সি প্রশ্ন তোলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিসের ফাঁদ’ এড়িয়ে নতুন ধরনের পরাশক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে?
থুসিডাইডিস ফাঁদ কী
‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ আন্তর্জাতিক রাজনীতির বহুল আলোচিত একটি তত্ত্ব। এর মূল ধারণা হলো—কোনো উদীয়মান শক্তি যখন প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করে, তখন দুই পক্ষের মধ্যে ভয়, অবিশ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়।
এই ধারণার উৎস প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার-এ তিনি লিখেছিলেন—
“এথেন্সের উত্থান এবং তার ফলে স্পার্টার মনে জন্ম নেওয়া ভয়ই যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।”
আধুনিক ভূরাজনীতিতে এই তত্ত্বকে প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে চীনের দ্রুত উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করছে। ফলে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
কেন ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন সি
বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে থুসিডাইডিস ফাঁদের প্রসঙ্গ তুলে সি চিন পিং মূলত তাইওয়ান ইস্যুতে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কারণে তাইওয়ান প্রশ্নটি ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর একটি।
বৈঠকে সি চিন পিং বলেন—
“চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু সামাল দিতে গিয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দুই দেশ সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি পুরো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলবে।
পরে কিছুটা নরম সুর
তবে বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে সি চিন পিং তুলনামূলক নরম ভাষায় কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীনের “জাতীয় পুনরুত্থান” এবং যুক্তরাষ্ট্রকে “আবার মহান করে তোলা”—এই দুই লক্ষ্য পরস্পরের বিরোধী নয়।
সি বলেন—
“চীনা জাতির গৌরবময় পুনরুত্থান এবং আমেরিকাকে আবারও মহান করে তোলা—দুটি বিষয় একসঙ্গেই সম্ভব। আর তা পুরো বিশ্বের জন্যই কল্যাণকর হতে পারে।”
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
সি চিন পিংয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, চীনের প্রেসিডেন্ট “খুব মার্জিতভাবে” যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভবত একটি “ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর সেই অবস্থায় নেই। তিনি বলেন—
“দুই বছর আগে আমরা সত্যিই একটি ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র ছিলাম। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি
