মুক্তদেশ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান ইউরিয়ার বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল সোমবার (১১ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় ৪৬ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বছরে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন ইউরিয়া সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে; কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ইউরিয়ার দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইউরিয়া মূলত কৃষিখাতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কিছু প্রক্রিয়াতেও এর ব্যবহার রয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রকেট প্রপেল্যান্ট, আর্টিলারি শেল এবং নির্দিষ্ট ধরনের বিস্ফোরক যৌগের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ মেজর রবার্ট ক্যাম্পবেল বলেন, আধুনিক বিস্ফোরক প্রযুক্তিতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইউরিয়া কিছু ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা ও হামলাকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর ফলে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এখন ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কাঁচামাল সংকট সেই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংকটকে আরও জটিল করেছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের জ্বালানি পরিস্থিতি। ইসরায়েল থেকে মিশরে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কায়রোর কয়েকটি ইউরিয়া উৎপাদন কেন্দ্রও কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বিকল্প সরবরাহ উৎসও সীমিত হয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক খাতেই নয়, কৃষিক্ষেত্রেও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি উৎপাদনও ব্যাপকভাবে ইউরিয়ানির্ভর। ফলে শিল্প ও কৃষি—দুই খাতের চাহিদার মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান CSIS (Center for Strategic and International Studies) আগেও সতর্ক করেছিল, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে দ্রুত হারে গোলাবারুদ ব্যবহৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি ও কৃষি বাজারেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক অবস্থানেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
