মুক্তদেশ ডেস্ক: এক বছরে নির্যাতনের শিকার ৩৮৯ জন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ—এই ১২ মাস বা এক বছরে বাংলাদেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। এর মধ্যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চারজন সাংবাদিকের। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৯টি।
এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়েও সচিবালয়ে ঢোকার অনুমতি বাতিল করা হয়
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাপের মুখে ছিল দেশের গণমাধ্যম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতনের পর গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে সরাসরি কোনো চাপ না থাকলেও তাদের সময় বিভিন্ন গোষ্ঠীর ‘মব’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায় দেশের গণমাধ্যম। ওই সরকারের দেড় বছরজুড়ে গণমাধ্যম একধরনের ‘মব–আতঙ্কের’ মধ্যে ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়েও সচিবালয়ে ঢোকার অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে সমালোচনার মুখে নির্ধারিত সংখ্যক সাংবাদিকের তালিকা করা হয়।
এরপর নতুন নীতিমালা করা হয়। তবে সাড়ে চার মাসেও নীতিমালার বাস্তবায়ন হয়নি। আবার সমালোচনা হলে কার্ড দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু সেটি দিয়েও সরাসরি সচিবালয়ে ঢোকা যাচ্ছিল না।
