মুক্তদেশ ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য কি পাকিস্তান হতে পারে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের যুদ্ধক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দমনের নামে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরান এবং লেবাননের পর আর কোনো দেশ কি ইসরায়েলি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে? বিশেষ করে পাকিস্তানকে ঘিরে নানা গুঞ্জন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরান অভিযানের আগে মোদির ইসরায়েল সফর
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাত্র তিন দিন আগে ইসরায়েল সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সফরের পরপরই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানকে ঘিরে নতুন আশঙ্কা দেখা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষ মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইসরায়েলের সন্দেহ ও বিরূপ মনোভাব রয়েছে। সে কারণে ইরানের মতো পাকিস্তানও ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ইসলামাবাদের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, পাকিস্তানকে একটি অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তার মতে, ইরানে প্রভাব প্রতিষ্ঠার পর ভারত ও আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সেখানে যদি কোনো পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে তার প্রভাব পাকিস্তানের নিরাপত্তায় পড়তে পারে।
পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক
বিশ্বে বর্তমানে অন্তত নয়টি দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও সেই তালিকায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম দেশগুলোর হাতে একই প্রযুক্তি থাকলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বৈত মানদণ্ড দেখা যায়।
ইসরায়েলের দৃষ্টিতে মুসলিম বিশ্বের কোনো শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র ভবিষ্যতে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ও সম্ভাব্য জোট রাজনীতি
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আলোচিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে। এতে ফিলিস্তিন ছাড়াও সিরিয়া, ইরাক, লেবানন ও জর্ডানের অংশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতাকে ইসরায়েলের কিছু কৌশলবিদ ভবিষ্যৎ হুমকি হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এমন সম্ভাব্য জোটকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ভারত-ইসরায়েল সামরিক সহযোগিতা
ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধপ্রযুক্তি, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনা চলছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ ও ‘আয়রন বিম’ ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান বৈরিতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং নতুন সামরিক জোটের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
পাকিস্তানকে দুর্বল করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব আরও বাড়বে—এমন ধারণাও কিছু বিশ্লেষকের মধ্যে রয়েছে। তবে বাস্তবে পাকিস্তান সরাসরি ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্য হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
