মুক্তদেশ ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ ও পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে অচলাবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান–এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাঈদী জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা–তে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় ইরান এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—তারা ভবিষ্যতে কখনোই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করবে না।
কী বলছে ওমান?
ওয়াশিংটন ডিসিতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল বুসাঈদী বলেন, একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি এখন “হাতের নাগালে”। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী—
- ইরান তাদের বর্তমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনবে
- মজুতকৃত উপাদানকে পরমাণু জ্বালানিতে রূপান্তর করা হবে
- সেই জ্বালানি এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত হবে যাতে তা আর কখনো বোমা তৈরির উপযোগী উপাদানে ফিরিয়ে নেওয়া না যায়
- পুরো প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)–এর তত্ত্বাবধানে শতভাগ যাচাইযোগ্য থাকবে
বিশ্লেষকদের মতে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না থাকলে কার্যত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব নয়। ফলে এটি হলে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বড় অবসান ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে পৌঁছায়, সেটাই তাদের জন্য “বুদ্ধিমানের কাজ”। তবে জেনেভার অগ্রগতিতে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলেও জানান।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যা আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
সামনে কী?
আগামী দফার আলোচনা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা–তে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—
- যদি ভিয়েনার আলোচনায় ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে
- এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও সমঝোতা হয়
তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
- মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমবে
- বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে
- আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ওমানের ভূমিকা আরও দৃঢ় হবে
- বহু বছরের অবিশ্বাস কাটিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন পথে এগোতে পারে
সব মিলিয়ে, জেনেভা থেকে শুরু হওয়া এই অগ্রগতি এখন ভিয়েনার টেবিলে চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে। বিশ্বের নজর এখন সেই আলোচনার দিকেই।
