মুক্তদেশ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এই সরকারের তেমন কোনো ব্যর্থতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক নিয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে করা প্রেস উইংয়ের শেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শফিকুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, দেশে ও শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বৈরাচার আমলের অপরাধের বিচার করা হচ্ছে। দেশকে ভালোকে নির্বাচনের ধার প্রান্তে নিয়ে আসা হয়েছে। বলিষ্ঠ পররাষ্ট্র নীতি পেয়েছি। সাংস্কৃতিক জাগরণ হয়েছ। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে তাজা করে প্রবৃদ্ধির পথে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি বাড়বে। দেশের প্রতিটি খাতে নতুনত্ব এসেছে, সংস্কার হয়েছে, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার পায়। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হয়েছে। এ সরকারের তেমন ব্যর্থতা নেই। এ সরকার যা অর্জন করতে চেয়েছে, তার ৯০ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, আমি আবারও বলছি, আপনারা পাবেন। আমি যতটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের স্টেটমেন্ট (বিবরণী) দিয়েছেন। এক-দুই দিনের মধ্যে এটি প্রকাশ করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, তিনি আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টা ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনে ভোটের হার কেমন হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
গণমাধ্যম বিষয়ে শফিকুল আলম দাবি করেন, গত ১৮ মাস ধরে গণমাধ্যম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। কোনো মিডিয়া হাউস যেন বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও আমরা নজর রেখেছি। শেখ হাসিনার আমলে বন্ধ হওয়া কয়েকটি গণমাধ্যম পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং গণমাধ্যম খাতে বেশ কিছু সংস্কারও হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ আমলে দেশের পররাষ্ট্রনীতি (ফরেন পলিসি) আরেকটি দেশের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছিল মন্তব্য করে প্রেস সচিব বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ফরেন পলিসি আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, চীন, জাপান, ইউএসের সঙ্গে আমাদের সুন্দর সম্পর্ক হয়েছে। ১৮ বছর পর নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ টিম পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা এখনো বন্ধ হয়নি, এটা খুবই দুঃখজনক। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কাজ করছি। চায়না একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, এটি সময় সাপেক্ষ।
ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৮ মাসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো না হওয়ার বড় একটি কারণ ছিল ভারতের মিডিয়ার বড় মিস ইনফরমেশন ছড়ানো। শেখ হাসিনা দিনের বেলায় ভালো ভালো কথা বলছেন। কারও কারও সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে, রাতে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করিয়েছেন সেখানে বসে।
দেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক চেষ্টা করেছিল নভেম্বরে। বাস পুড়িয়েছে, গির্জায় ককটেল ফাটিয়ে। অনেক টাকা তারা বাইরে নিয়ে গেছে। আর চোরদের কাজ অনলাইনে এসে চিল্লাচিল্লি করা। ওদের মিছিলে কোনো লোক নেই।
