মুক্তদেশ ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীসহ ভারী নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এখন থেকে ছোট বা সীমিত যেকোনো হামলাকেও ইরান নিজেদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই রণপ্রস্তুতি বাস্তব যুদ্ধের জন্য নয়—তারা এমনটাই আশা করছেন। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ছোট-বড় বা যে ধরনের হামলাই হোক না কেন, এবার ইরান সংযম দেখাবে না। যেকোনো আক্রমণকে আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করব এবং তার জবাবে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাব।”
ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, হামলা সীমিত, অসীমিত, সার্জিক্যাল বা আকাশপথে—যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, ইরান তা পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসন হিসেবেই দেখবে।
আইআরজিসি কমান্ডারের হুঁশিয়ারি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে একই সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলকে “যন্ত্রণাদায়ক” ও “মর্মান্তিক” পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর।
ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এই কমান্ডার গত বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কোনো বিভ্রান্তিতে থাকা উচিত নয়। তিনি গত বছর জুনে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে পরিণতি হবে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক”।
পাকপৌর আরও বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—আইআরজিসি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা বেশি প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
