মুক্তদেশ ডেস্ক:যাত্রাপথে রাত গভীর হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন এক দম্পতি। সেখানে দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্য ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই দম্পতির স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২৯) এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ (২৫)। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁরা নিয়োজিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬) বর্তমানে একই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তাঁর বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও প্রায় সাত মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক তরুণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁরা নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে একটি সুতা তৈরির কারখানায় কাজ করেন ওই কিশোরীর স্বামী। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে সুতা পরিবহন করেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নানাবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে ওই দম্পতিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান। পরে স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিচে আটকে রেখে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরী নিচে নেমে স্বামীকে সব জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘দুই আনসার সদস্য আমাকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ‘ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে দুই আনসার সদস্য ধর্ষণ করেছে। তারা আনসারের পোশাক পরা ছিল।’
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে ডেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
