এম. হাসান :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারে এবং তিনি দেশটির বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। একই সঙ্গে তিনি সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন কঠোর প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছেন। ক্রমবর্ধমান এই অস্থিরতা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ধর্মীয় শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সূত্র রয়টার্স
ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ১২ দিনের এক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছিল। ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, তারা ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি।এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক করবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এসব বিকল্পের মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী অনলাইন নেটওয়ার্ককে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,“সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, আর আমরাও খুব শক্ত কিছু বিকল্প বিবেচনা করছি।” ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ওয়াশিংটনকে “ভুল হিসাব” না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।তিনি বলেন,“স্পষ্ট করে বলছি—ইরানের ওপর হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল), পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।”
গালিবাফ ইরানের অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার।
লাশে ভরা বডি ব্যাগ
গত ২৮ ডিসেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দেশ শাসন করে আসা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়।ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে এবং সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়—যার উদ্দেশ্য ছিল “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের” নিন্দা জানানো, বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাম্প রোববার বলেন, তিনি ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন—স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবার মাধ্যমে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তেহরানের ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে বিপুল জনতা মিছিল করছে, হাততালি দিচ্ছে ও স্লোগান দিচ্ছে। এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়,“এই জনসমুদ্রের কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই।”রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের করোনার অফিসে মাটিতে সারি সারি বডি ব্যাগ দেখানো হয়। সেখানে বলা হয়, নিহতরা “সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের” শিকার। একই সঙ্গে কাহরিজাক ফরেনসিক মেডিকেল সেন্টারের বাইরে স্বজনদের ভিড়ের দৃশ্যও দেখানো হয়—তারা মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় ছিলেন।রয়টার্স ঘটনাস্থলগুলোর সত্যতা যাচাই করেছে।রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রোববার কর্তৃপক্ষ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে—“যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে শহীদদের সম্মানে।” ইসরায়েলের তিনটি সূত্র জানায়, সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরামর্শ বৈঠকে তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সম্ভাব্য কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
