মুক্তদেশ ডেস্ক: সিরিয়ায় অবস্থানরত কট্টরপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকোমের তথ্যমতে, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত সিরিয়াজুড়ে আইএসের শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেনাবাহিনী সিরিয়ায় সম্প্রতি শুরু করা ‘অপারেশন হকিয়ে’-এর অংশ হিসেবে এই মিশনটি পরিচালনা করেছে।
তবে এই অভিযানে কতজন হতাহত হয়েছে বা কোন কোন নির্দিষ্ট স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি সেন্টকোম।
এক রাতেই তিন স্থানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ছয়জন নিহতএক রাতেই তিন স্থানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ছয়জন নিহত
চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরুতে সিরিয়ার পালমিরা শহরে একটি মার্কিন-সিরীয় গাড়িবহরে চোরাগোপ্তা হামলা চালায় আইএস। ওই হামলায় ২ মার্কিন সেনা এবং একজন দোভাষী নিহত হন। সেই ঘটনার কঠোর জবাব দিতেই ২০ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন হকিয়ে’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই অভিযান সম্পর্কে বলেন, এটি কোনো নতুন যুদ্ধের শুরু নয়, বরং আমাদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিশোধমূলক পাল্টা পদক্ষেপ। আইএসের হুমকি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল এলাকা দখল করে আইএস তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং রুশ বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানের মুখে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ের বিশাল সাম্রাজ্য হারানো আইএস এখন তাদের সাবেক ভূখণ্ডের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
ইরানে হামলার ব্যাপারে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ ভাবছেন ট্রাম্পইরানে হামলার ব্যাপারে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ ভাবছেন ট্রাম্প
বর্তমানে সিরিয়ায় আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধারাবাহিক এই অভিযানের ফলে অবশিষ্ট এলাকায়ও আইএস তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাবে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
