মুক্তদেশ ডেস্ক: ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবিরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোনো আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
হুমায়ুন কবির লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবিরের গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, হুমায়ুন কবির লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। একই রোগে তাঁর দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলেও আদালতকে অবহিত করা হয়।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের শারীরিক অবস্থায় জামিন আবেদনের বিরোধিতা করা কঠিন। তবে তিনি শর্ত আরোপের অনুরোধ জানান, যাতে আসামি মামলার অন্যান্য আসামির সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পারেন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল চারটি শর্তে হুমায়ুন কবিরের জামিন মঞ্জুর করেন। শর্ত অনুযায়ী, আসামিকে বাসার নির্দিষ্ট ঠিকানা দিতে হবে। গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়া যাবে না। তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারকে অবহিত না করে বাসা পরিবর্তন করা যাবে না। মামলার সাক্ষ্য বা প্রমাণ কোনোভাবেই প্রভাবিত করা যাবে না।
জামিন আদেশ দেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনাল সতর্ক করে বলেন, শর্ত ভঙ্গ হলে ভবিষ্যতে আর জামিন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আদেশে উল্লেখ করা হয়, শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।
